আজাদীর সেকাল-একাল

আ. ফ. ম. মোদাচ্ছের আলী | সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ at ১:১৮ পূর্বাহ্ণ


কোহিনুর ইলেক্ট্রিক প্রেস। শুরুতেই প্রেসের নাম কেন? বলছি। ছোটবেলায় পত্রিকার খুঁটিনাটি পড়া হতো। ছিলো না ইন্টারনেট। ফলে ছিলো না কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা বাবার মোবাইল। ভরসা পত্রিকা। চট্টগ্রামের আজাদী ঢাকার ইত্তেফাক এই দুটো পত্রিকা না পড়লে আমাদের পরিবার সহ চট্টগ্রামের প্রায় সব পরিবারের খবরের কাগজ পড়ার তৃপ্তি মিটতোনা। শুরু থেকে পড়া শেষ করে শেষে এসে থমকে যেতাম। প্রেস এর সাথে ইলেক্ট্রিক কেন? পরে বুঝেছি। আজাদী ও কোহিনুর ইলেক্ট্রিক প্রেস একসূত্রে গাঁথা।
বড় ভাইয়ের বন্ধু আতাউল হাকিম ভাই আমাদের বাসায় প্রায়শই আসতেন। স্কুলের ম্যাগাজিনে আমার লেখা দেখে আগামীদের আসরে লেখা পাঠাতে বললেন। সেইসময় আজকের আধুনিক কম্পিউটার ছিল না। টাইপ রাইটার ছিল অফিস ও আদালত পাড়ায়। সাদা কাগজে হাতে লিখে হলুদ খামে লেখা পোস্ট করলাম। চাতকের অপেক্ষা আর সয়না। ১৫-২০ দিন পর আতাউল হাকিম ভাই সকাল বেলায় বাসায় উপস্থিত। হকার তখনো কাগজ দেয়নি। পত্রিকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে হাত বাড়ালেন। আমার পিঠ চাপড়ে দিলেন। সব ঘোরে এর মধ্যে। পাতা উল্টালাম। আগামীদের আসরে নিজের নামটি লেখক হিসেবে দেখলাম। এর আগে একবার খুব সম্ভবত সদস্য হিসেবে নাম ছাপানো হয়েছিল। আজাদী প্রেম গভীর হলো। আজো আগামীদের আসরে লেখা ছাপা হয়। আজো লেখা ছাপা হলে ঋদ্ধ হই।
শুরুতেই যে কথা লিখেছিলাম। আমাদের কালে চট্টগ্রামের আজাদী ও ঢাকার ইত্তেফাক না পড়লে পাঠকের পড়ার অপূর্ণতা রয়ে যেত। ইত্তেফাক সেটি ধরে রাখতে পারেনি। আজাদী আজো পারছে। পাঠক কিনে হোক অন্যের কাছ থেকে হোক বা অনলাইনে হোক আজাদীতে চোখ বুলিয়ে নেবেই।
এখন আজাদীতে কলাম লিখি। এরও একটি ইতিহাস আছে। দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম শহর থেকে দূরে ছিলাম। ফিরে এসে আজাদীর তরুণ কান্ডারি ওয়াহিদ মালেক ভাইয়ের সাথে কথা বললাম। সেইসময় যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছিল। আমি একটি লেখা নিয়ে গেলাম তাঁর কাছে। “যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রচিন্তা।” তিনি লেখাটি রাখলেন। বললেন আপনাকে ফোন করবে। পরদিন একটা ফোন আসলো। পরিচয় দিলেন আন্তরিকভাবে। রাশেদ রউফ। বললেন আপনার লেখা পেয়েছি। রাশেদ ভাইয়ের সাথে সেই প্রথম আমার ফোনে পরিচয় হলো। লেখাটি প্রকাশের তারিখ নিয়ে আলাপ হলো। আমি যুদ্ধাপরাধী সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচারের রায় এর দিন লেখাটি ছাপাতে আগ্রহ প্রকাশ করলাম। সেভাবেই লেখাটি প্রকাশ হয়েছিল। সেইকালে আতাউল হাকিম ভাই আর এইকালে ওয়াহিদ মালেক ভাই, এবং ব্রিজ হিসেবে রাশেদ রউফ ভাই আজাদীতে আমার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করেছেন। আজাদীর স্লোগান ‘আইয়ুন জে স্বাগতম”। তাঁরা সেটি বাস্তবেও করছেন। প্রতিনিয়ত নতুন লেখক পাঠককে যুক্ত করছেন। স্বাগত জানাচ্ছেন। সবচে বড় কথা তাঁরা ঐতিহ্যের ধারক। আজাদীর জয় হোক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআস্থা ও ভালবাসার প্রতীক আজাদী
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থীদের সাফল্য ও শিক্ষকদের পর্যবেক্ষণ