অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছিল আন্দোলন

আজাদী ডেস্ক | বৃহস্পতিবার , ৫ মার্চ, ২০২৬ at ৬:০৫ পূর্বাহ্ণ

আজ অগ্নিঝরা মার্চের পঞ্চম দিন। ১৯৭১ সালের এদিন দেশজুড়ে চলছিল মিছিলমিটিং ও বিক্ষোভ। সময় যত গড়াচ্ছিল মুক্তিকামী জনতার আন্দোলন তত অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছিল। আন্দোলনেমিছিলে পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর গুলি সত্ত্বেও বীর বাঙালি দমে যায়নি। তাদের চোখেমুখে ছিল স্বাধীনতার স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে অসহযোগের মধ্য দিয়ে আন্দোলন এগিয়ে যায় স্বাধীনতার অবশ্যম্ভাবী ও যৌক্তিক পরিণতির দিকে। ১৯৭১ সালের এদিন ৫ম দিনের মতো হরতাল পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর গুলিতে টঙ্গী শিল্প এলাকায় ৪ জন শ্রমিক মারা যান এবং ২৫ জন আহত হন। এ খবরে ঢাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

সন্ধ্যায় সরকার ঘোষণা দেয়, আজ ঢাকায় সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে হরতালের মধ্যে ব্যাংক খোলা থাকে। জুমার নামাজের পর মসজিদগুলোতে শহিদদের আত্মার শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকাসহ সারা দেশে প্রতিবাদ সভা ও শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। লাহোরেও শহিদদের গায়েবানা জানাজা হয়। সংকটময় মুহূর্তে দেশের সংহতির জন্য বিভিন্ন মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জেড এ ভুট্টো রাওয়ালপিন্ডির প্রেসিডেন্ট ভবনে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সঙ্গে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন। অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল আসগর খান বিকালে করাচি থেকে ঢাকায় আসেন। তিনি রাতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে তার ধানমণ্ডির বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন।

রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিদেশি বেতারে প্রচারিত ‘শেখ মুজিব ভুট্টোর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে রাজি আছেন’ সংক্রান্ত সংবাদকে উদ্দেশ্যমূলক ও কল্পনার ফানুস হিসেবে আখ্যায়িত করেন। বঙ্গবন্ধুর স্বাধিকার আন্দোলনের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিকালে কবিসাহিত্যিক ও শিক্ষকরা মিছিল নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন। ছাত্রলীগ ও ডাকসুর উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের হয়।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধদায় স্বীকার করে বাবু শেখের জবানবন্দি