চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল–৭ এর বিচারক (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) এস এম জিয়াউর রহমান বলেছেন, শুধু আদালতে অপরাধী ব্যক্তিদের সাজা প্রদানের মাধ্যমে সমাজে অপরাধের মাত্রা কমানো সম্ভব নয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, বিশেষ করে মাঠ পর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ, মানবিক ও সহযোগিতামূলক আচরণ বজায় রাখার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সমাজে অপরাধের মাত্রা কমানো সম্ভব। গতকাল চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সভা কক্ষে আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে অত্র আদালতে কর্মরত সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জিআরও এবং বেঞ্চ সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল মনছুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার। সেমিনারে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’–এর ওপর বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তফা। প্রেজেন্টেশন প্রস্তুত ও উপস্থাপনায় তাকে সহযোগিতা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সাত্তার। প্রেজেন্টেশনে সংশোধিত আইনের গুরুত্বপূর্ণ বিধান, এর প্রয়োগের ক্ষেত্র এবং বিচারিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়। সভাপতির বক্তব্যে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার বলেন, বিচারপ্রার্থী জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর বিচারিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, জিআরও, বেঞ্চ সহকারীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকতা, দক্ষতা ও পারস্পরিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে প্রত্যেককে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেমিনারে উপস্থিত বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’–এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং সংশোধিত আইনের বাস্তব প্রয়োগ, তদন্ত, সাক্ষ্য–প্রমাণ, বিচারিক কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।










