অনলাইন নিলামে তোলা হচ্ছে ১০২ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের পণ্য

চট্টগ্রাম কাস্টমস

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৩ জুন, ২০২৬ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রামে দীর্ঘ সময় ধরে অখালাসকৃত ১০২ কন্টেনার বিভিন্ন ধরনের অনলাইন নিলামে (অকশন) বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গতকাল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্যটি জানান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি জুন মাসে ইঅকশন পদ্ধতিতে ১০২ কন্টেনার পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪৪টি লটে এসব পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে। নিলামযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল, যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ, কাগজ, ফ্রিজার, জেনারেটর, লাইম স্টোন, ফেব্রিঙ, ট্রান্সফরমার, কোয়ার্টজ পাউডার এবং গৃহস্থালি সামগ্রী। এসব পণ্যের ক্ষেত্রে কোনো সংরক্ষিত মূল্য (রিজার্ভ ভ্যালু) নির্ধারণ করা হয়নি।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মকর্তারা জানান, নিলাম কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। আগ্রহী বিডাররা সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের পর অনলাইনে দরপত্র জমা দিতে পারবেন। বাংলাদেশ কাস্টমসের ইঅকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে ঘরে বসেই অনলাইনে বিড করার সুযোগ থাকছে। তবে অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি জামানতের পেঅর্ডার ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নির্ধারিত দরপত্র বাক্সে জমা দিতে হবে। সর্বোচ্চ দরদাতাদের আমদানি নীতি আদেশ ২০২১২০২৪এর প্রযোজ্য শর্তাবলি অনুসরণ করে পণ্য খালাস নিতে হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আগামী ১৮ জুন বেলা ১১টায় ‘ইঅকশন/২০২৬’এর দরপত্র বাক্স উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহী বিডারদের ইঅকশন পোর্টাল পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে কাস্টম কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, আমদানিকৃত পণ্য জাহাজ থেকে বন্দর ইয়ার্ডে নামার ৩০ দিনের মধ্যে আমদানিকারককে সরবরাহ নিতে হয়। এই সময়ের মধ্যে কোনো আমদানিকারক পণ্য সরবরাহ না নিলে তাকে নোটিশ দেয় কাস্টমস। নোটিশ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে এই পণ্য সরবরাহ না নিলে তা নিলামে তুলতে পারে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এছাড়া মিথ্যা ঘোষণায় জব্দ পণ্যও নিলামে তোলা যায়। সর্বমোট ৪৫ দিনের মধ্যে নিলামে তোলার এই নিয়ম দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর করতে পারেনি বন্দর ও কাস্টমস। এতে করে বন্দরের ইয়ার্ডে এসব কন্টেনার পড়ে থাকে। আমদানি পণ্য যথাসময়ে খালাস না নেয়ায় বন্দরগুলোতে প্রায়ই কন্টেনার জট লাগে। দিনের পর দিন কন্টেনার পড়ে থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষও চার্জ পায় না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকক্সবাজার সৈকতের সব দোকানের কার্ড বাতিল ঘোষণা
পরবর্তী নিবন্ধভোলায় চিরশায়িত হলেন তোফায়েল আহমেদ