৭ মাস পর বাড়ি ফিরল নিখোঁজ রায়হান, নেই এক পা

লোহাগাড়া প্রতিনিধি | সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

লোহাগাড়া থেকে প্রায় সাত মাস আগে নিখোঁজ হওয়া মোহাম্মদ রায়হান (১২) নামে এক শিশু অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরে এসেছে। তবে দীর্ঘদিন পর ফিরে আসা শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। রায়হানের একটি পা নেই। পেটের এক পাশেও রয়েছে কাটাছেঁড়ার দাগ। রায়হান উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার রিকশাচালক নাজিম উদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি হেফজখানার ছাত্র ছিল।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত মাস আগে চুল কাটার জন্য বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রায়হান। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।

রায়হানের সাথে কথা বলে জানা যায়, নিখোঁজের দিন মিছিল নিয়ে যাওয়া একটি গাড়িতে উঠে সে কক্সবাজার চলে যায়। সেখানে প্রায় দুই মাস সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের মাথা ম্যাসেজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। পরে এক ব্যক্তি বেশি টাকা আয়ের কথা বলে তাকে ঢাকায় নিয়ে যায়। ওই ব্যক্তি তাকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের আশপাশে সালমা নামে এক নারীর কাছে নিয়ে যায়। সেখানে তার মতো আরও ১৫২০ জন শিশু ছিল। তাদের দিয়ে ভিক্ষা ও পানির বোতল বিক্রি করানো হতো। এসব কাজ করে পাওয়া টাকা সালমা নিয়ে নিতেন বলে শিশুটির দাবি। রায়হানের দাবি, সেখানে প্রায় এক মাস থাকার পর এক রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তার একটি পা কেটে দেওয়া হয়। ঘুম থেকে উঠে সে দেখতে পায়, তার একটি পা নেই। প্রচন্ড যন্ত্রণার কারণে পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ট্রেনে কাটা পড়ার কথা বলা হয়েছিল। এরপর সুস্থ হলে তাকে দিয়ে ভিক্ষা করানো হতো।

রায়হান আরও জানায়, গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) তাকে ঢাকা থেকে কঙবাজারগামী একটি বাসে তুলে দেওয়া হয়। তাকে বলা হয়েছিল বাড়িতে বেড়িয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে। রাতে লোহাগাড়ার চুনতি এলাকায় বাস থেকে নামার পর সে সীরত মাহফিলে চলে যায়। সেখানেই স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।

রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন জানান, চুনতির সীরত মাহফিলের সমাপনী দিবসের রাতে স্থানীয় লোকজন ফোন করে তার ছেলেকে দেখতে পাওয়ার খবর দেন। তিনি দ্রুত সেখানে গিয়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। নিখোঁজ হওয়ার আগে সুস্থসবল থাকা ছেলেটির একটি পা নেই ও পেটের এক পাশে কাটাছেঁড়ার দাগ দেখে তিনি হতবাক হয়ে গেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তার একটি কিডনিও নিয়ে ফেলা হয়েছে। কয়েক মাস আগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রায়হানকে নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি তাকে বলেছিলেন। ওই ভিডিওতে তার দুই পা দেখা যায়। বিষয়টি জানলেও ছেলে একসময় নিজেই বাড়িতে ফিরে আসবে বলে আশা করেছিলেন তিনি। ছেলেকে নিয়ে থানায় গিয়েও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, শিশুটির পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত নারীর মৃত্যু