৬৭ বছরে সিডিএর ১২ আবাসিক এলাকা, অনেক প্লট এখনো খালি

নগরে আবাসন সংকট, সিডিএর হাতে নতুন তিন প্রকল্প । বিশ্ব বসতি দিবস আজ

জাহেদুল কবির | সোমবার , ৫ অক্টোবর, ২০২৬ at ৬:১০ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরে আবাসন সংকট এখনো কাটেনি। নিরাপদ আবাসনের অভাবে অনেক মানুষ বস্তি, ঝুপড়িতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এছাড়া বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পাকা–আধাপাকা ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছেন। মূলত আবাসন সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে সংকট তীব্রতর হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থার আবাসন সংকট নিরসনে দায়িত্ব থাকলেও তারা সেই কাজটি করতে পারেনি। এর মাঝে সিডিএ গত ৬৭ বছরে ১২ আবাসিক এলাকা গড়ে তুললেও ওখানকার অনেক প্লট এখনো খালি পড়ে আছে।

এমন প্রেক্ষাপটে আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব বসতি দিবস। প্রতি বছর অক্টোবর মাসের প্রথম সোমবার বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়। এ বছর বিশ্ব বসতি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ন’।

এদিকে পুরনো আবাসন প্রকল্পগুলোর বিভিন্ন জটিলতা সুরাহা না করে নতুন করে আরো তিনটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সিডিএ। চলতি ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপিতে প্রস্তাবিত তিনটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৫৩৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ডেভেলপমেন্ট অব ফতেয়াবাদ নিউ টাউন ইন চট্টগ্রাম’ প্রকল্প। এটির মেয়াদ ধরা হয়েছে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ পর্যন্ত। প্রকল্পে হাটহাজারী থানার ফতেয়াবাদে প্রায় ৩৫৪ একর জমিতে নতুন উপশহর গড়ে তোলার পাশাপাশি ৫ লাখ মানুষের আবাসনের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বায়েজিদ লিংক রোডসংলগ্ন ‘নিসর্গ আবাসিক এলাকার উন্নয়ন’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে ১১৩ দশমিক ৮৯ একর জমিতে। প্রকল্পটিতে এখন সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষার কাজ চলছে। সমীক্ষা শেষে ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পরিকল্পনা আছে।

সর্বশেষ পতেঙ্গা এলাকায় ৩৪৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘বে–পার্ল হাউজিং প্রকল্পের উন্নয়ন (ফেজ–১)’ হাতে নিয়েছে সিডিএ। প্রকল্পটির মেয়াদ জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০২৯ পর্যন্ত। ১৯ দশমিক ৫৫ একর জমিতে এ আবাসন পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে ও ডিপিপি প্রণয়ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করবে সিডিএ নিজেই। তবে প্রকল্পটি লাভজনক কি না তার পুনর্মূল্যায়ন হচ্ছে।

সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এ যাবত গড়ে তুলেছে ১২টি আবাসিক এলাকা। ১৯৬৩ সালে কাতালগঞ্জ আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার মাধ্যমে আবাসিক প্লট তৈরির কার্যক্রম শুরু করে সিডিএ। এতে প্লটের সংখ্যা ৫৮টি। পরে ১৯৬৫ সালে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা হয়। এখানে প্লটের সংখ্যা ৩৯১টি। এরপর বেশ কয়েক বছর কোনো আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেনি। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা। এখানে প্লটের সংখ্যা ৭৫৯টি। ১৯৭৭ সালে করা কর্নেলহাট সিডিএ আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৬৮টি। ১৯৮৪ সালে করা সলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ৯০৪টি। ১৯৯৫ সালে করা কর্ণফুলী আবাসিক প্রকল্পে প্লটের সংখ্যা ৫১৭টি। ২০০০ সালে করা চন্দ্রিমা আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৮০টি। ২০০২ সালে করা চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা দ্বিতীয় পর্যায়ে প্লটের সংখ্যা ৮২টি। ২০০৬ সালে করা কল্পলোক আবাসিক এলাকায় প্রথম পর্যায়ে প্লটের সংখ্যা ৪২৩টি। ২০০৭ সালে করা কল্পলোক আবাসিক এলাকা দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৩৫৬টি। ২০০৮ সালে করা অনন্যা আবাসিক এলাকায় প্লটের সংখ্যা ১৪৭৮টি। ২০০৯ সালে ষোলশহর পুনর্বাসন এলাকায় সিডিএ ৪৮টি প্লট বরাদ্দ দেয় ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের। চট্টগ্রামে গত ৬৭ বছরের বেশি সময়ে সিডিএ মোট ৬ হাজার ৩৬৪টি প্লট তৈরি করে বরাদ্দ দিয়েছে। সিডিএ বিভিন্ন সময় আবাসিক এলাকা গড়ে তুললেও অধিকাংশ প্লট খালি পড়ে আছে। এসব আবাসিক এলাকার দুই তৃতীয়াংশ প্লটে কোনো বাড়িঘর নির্মিত হয়নি।

চট্টগ্রামের আবাসন সংকট ঘুচাতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষেরও ব্যাপক ভূমিকা রাখার কথা। ১৯৫৬ সাল থেকে গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামে কাজ শুরু করলেও আবাসন সংকট ঘুচাতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি।

সিডিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, ভূমির মূল্যসহ নানা প্রতিবন্ধকতায় সিডিএর পক্ষে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠেছে। তারপরও সিডিএ আবাসন সংকট নিরাসনে কাজ করে যাচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালির আয়োজন করেছে সিডিএ। আজ বেলা ১১টায় সিডিএর হলরুমে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএক বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারের চেহারা বদলে যাবে : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধপ্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টার প্ল্যান করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী