২,৪০০ কোটি ডলার ছাড় না দিলে শান্তিচুক্তি নয় : যুক্তরাষ্ট্রকে ইরান

| সোমবার , ৮ জুন, ২০২৬ at ১০:৫৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি এখন ২,৪০০ কোটি ডলারের অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার ওপর ঝুলে রয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতাবা আলি খামেনির সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজায়ি শুক্রবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন–কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন। খবর বিডিনিউজের।

একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে তারা অন্ধকার গলিতে প্রবেশ করবে। তিনি বলেন, আলোচনায় অচলাবস্থা চলছে। এ অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই ভাঙতে হবে। বল এখন ট্রাম্পের কোর্টে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি সই হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ইরান তাদের অবরুদ্ধ তহবিলের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলার ছাড়ের দাবি জানায় বলে খবর পাওয়া গেছে। পরের ধাপে ইরান অবশিষ্ট জব্দ অর্থ ছাড়ের কথা বলেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

তাদের আশঙ্কা, এই সময়ে অবরুদ্ধ অর্থ ছাড় দিলে ইরানের ওপর চাপ ধরে রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হারিয়ে যাবে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলে আসছেন, যে কোনো নতুন চুক্তি ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে অনেক বেশি জোরাল হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ইরানের কাছে বিপুল অর্থ হস্তান্তরের মতো পদক্ষেপ এড়াতে চান। সিএনএন–কে দেওয়া বিরল সাক্ষাৎকারে রেজায়ি যুদ্ধ–পরবর্তী পরিস্থিতি, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ও নতুন করে হামলা হলে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া নিয়ে কথা বলেন।

তার বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, তিনি ইরানের নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত। বর্তমান সর্বোচ্চ নেতার ঘনিষ্ঠজন হিসেবেও তাকে দেখা হয়। রেজায়ি বলেন, জব্দ অর্থ মুক্ত করা হলে তা দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। ট্রাম্প প্রশাসন এ অর্থ মুক্ত করলে তা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে পৌঁছতে চাইলে তার প্রতি ইরানের আস্থা রাখার পরীক্ষা হল, এই ২ ,৪০০ কোটি ডলার। এটি এমন এক পরীক্ষা, যা যুক্তরাষ্ট্রকে পাস করতে হবে। তবেই পথ খুলবে, বলেন তিনি। রেজায়ি আরও বলেন, এটি আমাদের নিজেদের অর্থ, যুক্তরাষ্ট্রের নয়। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার হামলা শুরু করলে ইরান যুদ্ধ পারস্য উপসাগরের বাইরেও ছড়িয়ে দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালি থেকে শুরু করে ভারত মহাসাগর, বাব আল–মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত সামরিক অভিযান ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর আগে যেসব মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, সেগুলোর বাইরে আরও বিভিন্ন ঘাঁটি হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজন্মদিনে লাকী আখান্দের সুরে এল ‘উড়ছে ধুলো ছুটছে ঘোড়া’
পরবর্তী নিবন্ধইসরায়েলি গুপ্তচরবৃত্তির হুমকির মাত্রা গুরুতর পর্যায়ে উন্নীত করেছে পেন্টাগন