চট্টগ্রাম বন্দরের মূল শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় নিরাপদ নৌ–চলাচল নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১২ হাজার মিটার অবৈধ জাল ও জাল স্থাপনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ ও অপসারণ করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব জালের মধ্যে ছিল সুতার জাল, টং জাল ও বেহুন্দি জাল।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে বিকেল অব্দি পরিচালিত অভিযানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘কাণ্ডারী–১২’ ও চারটি স্থানীয় বোটের সাথে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের একটি জাহাজও সহযোগিতা করে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, বন্দরের প্রধান নেভিগেশনাল চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় অবৈধভাবে জাল স্থাপনের কারণে জাহাজ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে নেভিগেশনাল নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এ কারণে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বিশেষ এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে শিপিং চ্যানেল থেকে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ জাল অপসারণের পাশাপাশি জাল স্থাপনে ব্যবহৃত সরঞ্জামও জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত জাল ও সরঞ্জামগুলো পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
এ সময় নেভিগেশনাল রুটে অবস্থানরত ফিশিং বোটগুলোকে চ্যানেল এলাকা থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নৌ–চলাচল রুট ও নেভিগেশনাল চ্যানেলে জাল না বসানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মাঝিমাল্লাদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের মূল শিপিং চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় নেভিগেশনাল ঝুঁকি কমানো এবং জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। নৌ–চলাচল রুটে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করা এবং নির্ধারিত নেভিগেশনাল রুট মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট নৌযান ও মাঝিমাল্লাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙরে অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধ এবং নিরাপদ নেভিগেশন নিশ্চিত করার কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও বন্দর সচিব জানিয়েছেন।










