পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ে হাটহাজারী উপজেলায় দ্রুতই ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি জানিয়েছেন, উদ্বোধনের সময় শুরু না হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে কৃষক কার্ডের কার্যক্রমও শুরু হবে। তিনি আরো জানান, নারীদের চলাচলে স্বকীয়তা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ ও নিরাপত্তা প্রদানের লক্ষে বিআরটিসির মহিলা বাস সার্ভিস চালু করার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। কর্মসূচিটি প্রথমে ঢাকায় চালু করা হলেও পরবর্তীতে ধারাবাহিকভাবে চট্টগ্রামেও চালু করা হবে।
গতকাল নগরীর সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম আয়োজিত ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন, নারীর জন্য গাড়ির সুফল’ বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এসব কথা বলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, কৃষির চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে খাল খনন শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে বামনশাহী খাল খননের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এখানকার ৫৪টি খালের মধ্যে ৬২ কিমি খননসহ মোট ১২৮ কিমি খাল খনন করা হবে। তিনি বলেন, ইট প্রস্তুতের জন্য মাটির উপরিভাগ কাটা হয়ে থাকে। এ বছর আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে খননকৃত খালের মাটি যেন ইটভাটায় ব্যবহার করা হয়। তাহলে এসব মাটির যেমন কার্যকর ব্যবহার হবে তেমনি কৃষিজমির টপসয়েল রক্ষা পাবে। চট্টগ্রামের ডিসি পার্কে ২০ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননকৃত খালের মাটি যেন আবার সেই খালে না পড়ে সে বিষয়টি তদারক করা হবে। তাছাড়া সিএস বা আরএস জরিপ দেখে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত যেসব খাল মরে গেছে বা বিলুপ্ত হয়ে গেছে তাও খনন করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে জেলা প্রশাসক বলেন, খননের জন্য খাল বাছাইয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে কৃষির গুরুত্ব দেখা হবে। যেসব খালের দ্বারা কৃষিতে সেচ ব্যবস্থা এবং মৎস্য চাষ সহজে করা যাবে সেগুলোই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খনন করা হবে। তবে পর্যায়ক্রমে সব খালই খনন করা হবে। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা দূর করতে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা পলিথিন না ফেলা– প্রভৃতি বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে তিনি গণমাধ্যমের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) আয়েশা ছিদ্দীকা সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রচারে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ও জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রামের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের তথ্য জনগণ বিশেষ করে প্রান্তিক জনগণের নিকট তুলে ধরতে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর ১৮০ দিনের প্রচার কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
এ কর্মসূচির আওতায় গণযোগাযোগ অধিদপ্তর সারা দেশে ১০২১টি উঠান বৈঠক ও কমিউনিটি সভা, ২০২টি নারী সমাবেশ, ১১০৬০টি চলচ্চিত্র প্রামাণ্যচিত্র ও টিভিসি প্রদর্শনী, ৩২৪৮ ইউনিট সড়ক প্রচার ও মাইকিং, ২৩১৬টি অনলাইন প্রচার, ১৪টি কৃষক সমাবেশ, ২২টি ফ্যামেলি সমাবেশ, ১৪টি নৈতিক উন্নয়ন বিষয়ক সভা ও কুইজ প্রতিযোগিতা এবং ৩৪০টি স্থানে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন বড় পর্দায় জনবহুল স্থানে প্রদর্শন করা হয়েছে। একই কর্মসূচির আওতায় জেলা তথ্য অফিস চট্টগ্রাম ৬০ ইউনিট সড়ক প্রচার, ১৫২টি চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, ৮টি উঠান বৈঠক, ২টি নারী সমাবেশ, ১৮০টি অনলাইন প্রচার এবং অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন বড় পর্দায় ৫টি জনবহুল স্থানে দেখানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষক কার্ড, কৃষি ঋণ মওকুপ, বৃক্ষরোপণ ও নারীর জন্য গাড়ি বিষয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন, মো. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সংস্থা তথা সমাজসেবা অধিদপ্তর, কৃষি অধিদপ্তর ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন।













