ফটিকছড়ি উপজেলায় সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসির বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী এক বাবা ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি সড়কের আমতল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর পুলিশ বাসের চালক মো. রাসেলকে আটক করতে সক্ষম হয়।
দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় ২ ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর পাইন্দং গ্রামের আমতল সামাজিক এলাকার মোহাম্মদ শাহাজাহান (৪০) এবং তার ছেলে মোহাম্মদ আরিফ (১৮)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল ৯টার দিকে বিআরটিসি বাসটি খাগড়াছড়ি থেকে দ্রুত গতিতে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। পাইন্দং ইউনিয়নের আমতল এলাকায় পৌঁছালে বেপরোয়া গতির বাসটি প্রথমে সড়কে থাকা দুটি টেঙিকে চাপ দিয়ে পাশে ফেলে দেয়। এর পর বাসটি সামনে থাকা মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে মুচড়ে বাসের নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলে থাকা বাবা ও ছেলে দুজনের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পর পরই বাসের চালক ও হেলপার দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতা বাসটি আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় ক্ষুব্ধ জনতা সড়কে অবস্থান নেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার ভয়াবহতা দেখে কয়েকজন সাধারণ মানুষ ও পথচারী মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার চেষ্টা করলে উত্তেজিত জনতা তাদের ওপর চড়াও হয় এবং কয়েকজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে। অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য গাড়ি আটকা পড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ এবং যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর প্রশাসনের সহযোগিতায় বাসের আগুন নেভানো হয় এবং সড়ক থেকে পুড়ে যাওয়া বাস ও মোটরসাইকেলটি সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনার প্রায় ২ ঘণ্টা পর বেলা ১১টার দিকে মহাসড়কে পুনরায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান জানান, আগুন নেভানোর পর সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। ঘটনার পর পরই অভিযান চালিয়ে ঘাতক বাসের চালককে আটক করা হয়েছে।
ওভারটেক করতে গিয়ে বাসের নিচে পিষ্ট : এদিকে গতকাল একই সড়কে টেঙিকে ওভারটেক করতে গিয়ে বাসের নিচে চাপা পড়ে মোহাম্মদ রবিউল (২৪) নামে এক বাইক আরোহী নিহত হয়েছেন। সড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রবাসী মোহাম্মদ রবিউল ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের মোহাম্মদ পাশার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল দ্রুত গতিতে একটি টেঙিকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি মহাসড়কের নয়াবাজার এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসের নিচে পড়ে যান। বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ফটিকছড়ি থানার উপপরিদর্শক ইয়াছিন জানান, ঘটনার পর পর স্থানীয় জনতা বাসটিকে আটকে রাখে। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করেছে। নিহত মোহাম্মদ রবিউলের মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।











