দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির বিভিন্ন অপচেষ্টা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেন, সেই স্বৈরাচার এখন বড় বড় স্লোগান দিচ্ছে। গোপনে দেশে সন্ত্রাস কায়েমের চেষ্টা করছে, অরাজকতা সৃষ্টি করছে এবং দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির পাঁয়তারা করছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাদের নতুন কোনো পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হবে না। গতকাল বুধবার বিকেলে নাসিমন ভবনস্থ দলীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম–৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম–৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম–১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক (এনাম), চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম–১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম–১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, হাটহাজারীর সংরক্ষিত নারী আসন–৫–এর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন হেলাল।
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ৭১–এর পরাজিত শক্তিও দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। যেখানে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রয়োজন, সেখানে তারা আজ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।
এসময় তিনি বলেন, আমাদের দুটি অপশক্তিকে একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। তবে সেই মোকাবিলা হতে হবে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কায়দায়। কোনো ধরনের উসকানি, সংঘাত বা উত্তেজনার পথে নয় রাজনৈতিক কর্মসূচি, জনসম্পৃক্ততা এবং আদর্শিক অবস্থানের মধ্য দিয়েই তাদের মোকাবিলা করতে হবে।
নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল থাকার আহ্বান জানিয়ে এ্যানি বলেন, কেউ যেন কোনো ধরনের উসকানিতে পা না দেন। আমাদের ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা বজায় রাখতে হবে। যারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে চায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজনৈতিকভাবেই তাদের মোকাবিলা করতে হবে। এ্যানি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর দেশে যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে, তা ধরে রাখতে হলে প্রতিহিংসা, সংঘাত ও উসকানির রাজনীতি পরিহার করে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। দীর্ঘ ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টরা আমাদের সঙ্গে যেভাবে মোকাবিলা করেছে, আমরা তাদের সঙ্গে সেভাবে মোকাবিলা করতে চাই না। আমাদের রাজনীতি প্রতিহিংসার রাজনীতি নয়। আমরা রাজনৈতিকভাবেই সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টার মোকাবিলা করতে চাই। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে স্লোগান ছিল ‘সবার আগে বাংলাদেশ’, এখন হোক ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। জনগণের অধিকার, মর্যাদা ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এ্যানি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম ছিল অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল। জুলুম–নির্যাতন, মামলা–হামলা, গুম ও হত্যার মতো নানা পরিস্থিতির মধ্যেও বিএনপির নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে সরে যাননি।
মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, নির্বাচনের পর দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এই নতুন বাস্তবতায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ও রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, সহিংসতা ও গণতন্ত্রবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে হবে। তিনি বলেন, অতীতের অপকর্মের পুনরাবৃত্তি যাতে কোনোভাবেই না ঘটে, সে বিষয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ড ও থানায় নিয়মিত সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগের মাধ্যমে জনগণের কাছে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বার্তা পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব অপকর্ম বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে, সেগুলোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও আইনসম্মতভাবে জনমত গড়ে তুলতে হবে।
এরশাদ উল্লাহ এমপি বলেন, দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির যেকোনো প্রচেষ্টা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। ফ্যাসিস্ট নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম করছে। বোমাবাজিসহ নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা দেশে এবং দেশের বাইরেও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, মনে রাখবেন, স্বৈরাচার কখনো বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না। বাংলাদেশের মানুষই তাকে ফিরতে দেবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অনেকের বিরুদ্ধে এখনো দোসরদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। আমি তাদের আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন সরকারি পোশাকের মর্যাদা রক্ষা করেন এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেন।













