মাত্র পাঁচ মাস আগে ধুমধাম করে বিয়ে হয়েছিল সামিহা হাকিম নেহা (১৯) ও মারুফ পারভেজের। বিয়ের পর নেহার গর্ভে বড় হচ্ছিল ৩ মাসের সন্তান। নতুন প্রাণের আগমনের আনন্দ আর সংসারের সুখের স্বপ্ন নিমেষেই শেষ হয়ে গেল এক নির্মম বাস্তবতায়। ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকায় গত ১ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে গৃহবধূ নেহার এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহত সামিহা হাকিম নেহা ফটিকছড়ি পৌরসভার রাঙ্গামাটিয়া চৌমুহনী এলাকার রাজুর বাড়ির বাসিন্দা। এ ঘটনায় নিহতের মা শারমিন আক্তার বাদী হয়ে মেয়ের স্বামী মারুফ পারভেজ এবং তার বোনের জামাই (ভগ্নিপতি) আলাউদ্দিনের নামে ফটিকছড়ি থানায় একটি আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা দায়ের করেছেন। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে।
নিহত নেহার মা অভিযোগ করে বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়েকে তার স্বামী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে আসছিল। বাৎসরিক জিনিসপত্র, টাকা–এসব সব সময় মেয়ের কাছে চাইতো। আমি আমার মেয়েকে বুঝিয়েছি স্বামীর সংসার যাতে না ভাঙে, তাই সব মানিয়ে নিয়ে ধৈর্য ধরতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা আমার মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না। আমি আমার মেয়ে ও তার গর্ভের সন্তান হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক নানা সমস্যা নিয়ে মেয়েটিকে আত্মহত্যার প্ররোচনায় ফেলা হয়েছিল। এর আগে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মারধর ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ করা হলেও, শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আত্মহত্যার দাবি করা হয়।
এ ব্যাপারে ফটিকছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল আলম খান বলেন, ‘নাজিরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ থেকে মেয়েটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বামী মারুফ পারভেজ এবং তার বোনের জামাই আলাউদ্দিনের নামে আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’











