সৌদি আরবের রিয়াদে ব্যবসায়িক হিসাব–নিকাশ নিয়ে অংশীদারদের সাথে বিরোধের জেরে মনছুর আলম (৩০) নামে লোহাগাড়ার এক প্রবাসী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুখছড়ি আকিকার পাড়ার নুরুল কবিরের পুত্র। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে রিয়াদে চাচাতো ভাইয়ের বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন সোমবার দুপুরে পরিবারের সদস্যরা নিকটাত্মীয়ের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর পান। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩ বছর আগে জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে পাড়ি দেন মনছুর আলম। সেখানে মদিনায় ৪ জন অংশীদারের সাথে একটি মুদিদোকানের ব্যবসায় যুক্ত ছিলেন তিনি। প্রায় ৮ মাস আগে ব্যবসার কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার পর অংশীদারদের সাথে হিসাব–নিকাশ নিয়ে তার ভুল বোঝাবুঝি শুরু হয়। একপর্যায়ে টাকা চুরির অভিযোগ তোলে অংশীদাররা তাকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেয়। এরপর মনছুর রিয়াদে তার চাচাতো ভাই রবিউলের বাসায় চলে যান। তবে সেখানেও অংশীদাররা তাকে ফোনে বিভিন্নভাবে চাপ ও হয়রানি করায় মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার রাতে বাসায় কেউ না থাকা সুযোগে মনছুর একটি কক্ষে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে তার মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
মনছুরের বোন সোলতানা জানান, প্রায় দুই মাস আগে অংশীদাররা তাকে মারধর করে দোকান থেকে বের করে দেয়। এরপর অংশীদাররা নিয়মিত ফোন ও ভয়েস ম্যাসেজ দিয়ে মনছুরকে মানসিক চাপ ও অপমান করতো। এসব বিষয় নিয়ে মনছুর দীর্ঘদিন যাবত মানসিক চাপে ছিলেন। গত রোববার দুপুরে চলন্ত গাড়িতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন মনছুর। এতে তিনি আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রাতে তার জন্য ঔষুধ আনতে চাচাতো ভাই বাসা থেকে বের হলে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন মনছুর। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার। তবে মনছুরের ব্যবসায়ীক অংশীদার কারা ছিলেন জানা যায়নি। স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল কবির জানান, মনছুর নামে তার ওয়ার্ডের একজন যুবক প্রবাসে আত্মহত্যা করার বিষয়টি শুনেছি। তবে তার মরদেহ দেশে আনা কিংবা সেখানে দাফনের ব্যাপারে পরিষদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।













