সৈয়দা করিমুননেসার তৃতীয় কাব্য ‘ইশ যদি পাখি হতাম’

গোফরান উদ্দীন টিটু | সোমবার , ১১ মে, ২০২৬ at ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ প্রকাশিত কবি সৈয়দা করিমুননেসার নতুন কাব্য ‘ইশ যদি পাখি হতাম!’ প্রিয়তম মেঘকে উৎসর্গীত বইটিতে স্থান পেয়েছে কবির আটাশটি কবিতা। প্রায় প্রতিটি কবিতাই খুবই সুখপাঠ্য ও নাতিদীর্ঘ। ২০২১ সালের ‘হলুদ ফুলের দুপুর’ ও ২০২৪ এর ‘শব্দে আঁকি’র পর এটি কবির তৃতীয় গ্রন্থ।

আমরা জানি, কবি একজন চিত্রশিল্পীও। কিন্তু কবি ও শিল্পীর পর কেন তিনি পাখিও হতে চান একটু জানা যাক

সে আসলে পাখিরা জড়ো হয়

দুহাতে ও খাবার পেতে রাখে।

আমি তাদের দিকে এগুতে

তারা উড়ে চলে যায়।

আমার তো পাখা নেই

উড়ে উড়ে তাদের সাথী হবার।

ইশ্‌ যদি পাখি হতাম! (পৃ:৩২)

কবি পাখি হোন আর যাই হোন, আমরা তাকে জীবন্ত, প্রাণবন্ত প্রিয়মানুষ রূপেই আমাদের মাঝে চিরদিন দেখতে চাই, পেতে চাই। মহান আল্লাহ তাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুনআমিন।

প্রথম কবিতা ‘আস্থা’য় কবি বলেন

আমি বিশ্বাস করি না

আমাদের ফেলে তুমি চলে গেছো।

আমি কখ্‌খনো বিশ্বাস করবো না। (পৃ:)

দ্বিতীয় কবিতা ‘মায়া’য়ও একই বিষাদের প্রতিধ্বনি

দিগন্ত জুড়ে যে কষ্ট

তার ছায়াও নিতে পারছি না।

কী মায়া রেখে গেলে। (পৃ:)

কবির ‘প্রভাত’ কবিতায় আছে এক মমতাময়ী মায়েরই জয়ধ্বনি

ইদানিং সূর্যকে হারিয়ে দিতে পারি

ঈশান আমায় জয়ী হতে শিখিয়েছে। (পৃ:১০)

প্রকৃতি’ কবিতায় কবি যেন আত্মপ্রতিকৃতিই তুলে ধরেছেন

ভেবেছিলাম কোথাও যাবো না

ঘরেই রবো।

অথচ প্রকৃতি আমায় আটকে থাকতে দিচ্ছে না। (পৃ:১৮)

কুসুমের মাস’ কবিতায় কবির আরেক মাতৃরূপ

কুসুমের মাসে জন্ম তোমার

অদ্ভুত আনন্দে বিমোহিত হয়েছিলাম

প্রথম শব্দ সমস্ত হসপিটাল

কাঁপিয়ে বলেছিলে আম্মা‘….

যাবার বেলায়ও ‘মা’ বলেছিলে। (পৃ:২৩)

এই গ্রন্থে আমার খুবই ভালো লাগা আরেকটি কবিতা চট্টগ্রাম ‘-

পাহাড় ভালো না সমুদ্র ? যদি জানতে চায় কেউ….

আমি বলবো সবচে ভালো

হালদা নামের নদী। (পৃ:০৮)

ক্যানভাস’ কবিতায় কবির আশাবাদ

পাখির ডানা মেলে

আশার ঘুড়ি উড়বে। (পৃ:০৭)

ভাষা’কবিতার শেষ পঙক্তিতে কবির শুভ কামনা

আমাদের সকালটা উজ্জ্বল রোদ্দুরময় হোক। (পৃ:০৯)

সবুজের সমারোহ’ কবিতায়ও কবি আমাদেরকে রূপকথার দেশেই ঘুরিয়ে আনেন যেন

বর্ণিল সব ছোটোবেলা থেকে ভালো লাগতো

নিঃসঙ্গ গ্রহচারী নয়, সজীব হয়ে থাকি খুব। (পৃ:১১)

বইয়ের একটি নস্টালজিক কবিতা ‘কৈশোর’

নাহিদের বাসা আড্ডার বাহার ছিল….

কৈশোরকালে ফেলুদা পড়া হতো খুব

ল্যাম্পের আলোয় দিন কেটেছে কত। (পৃ:১২)

একদিন’ কবিতায় কবির স্মৃতিকাতর আশার বাণী

একদিন সময় আসবে

যখন লোকে বিজ্ঞান, কবিতা দুটোই বুঝবে। (পৃ:১৩)

সুন্দরবন’ কবিতায় কবির বিস্ময়

সুন্দরবনেও চিড়িয়াখানা আছে! (পৃ:১৪)

আগুন কবিতায় কবির নিখাদ স্বীকারোক্তি

প্রতিবাদ প্রতিরোধের

আমাদের আগুন এগুনোর পথচলা। (পৃ,:১৫)

মাছধরা’ কবিতায় কবি ফিরে যান দূর শৈশবে

আকাশে রোদ্দুর ভরা মেঘ

সোনিয়া বললো তোমাকে ফেলে

মাছধরা বেজায় ভুল হয়েছে।(পৃ,:১৬)

ভাইয়া: কবিতায় কবি অকালপ্রয়াত অগ্রজ মুহাম্মদ আলী শাহ্‌েক স্মরণ করেন গভীর শ্রদ্ধায়

কিছু কিছু মানুষের দেড়শো দুইশো বছরের আয়ু দরকার….

ভাইয়ার মতো মানুষকে বাঁচিয়ে রাখা যেত। (পৃ:২৬)

শিল্পী জয়নুল আবেদীনের অপূর্ব সুন্দর প্রচ্ছদে কবি সৈয়দা করিমুননেসার তৃতীয় কাব্য ‘ইশ যদি পাখি হতাম’ আশা করি সব পাঠকেরই ভালো লাগবে।

লেখক: শিশুসাহিত্যিক।

পূর্ববর্তী নিবন্ধপথচারীদের জন্য ফুটপাত দখলমুক্ত করা হোক
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা-ব্যবস্থা