সেমিফাইনাল আর ফাইনাল মিলে চট্টগ্রামে হবে ১৪ ম্যাচ

অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ সিলেটে উদ্বোধনী ম্যাচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:২১ পূর্বাহ্ণ

বিশ্বকাপ ক্রিকেট আয়োজনে চট্টগ্রামের অভিজ্ঞতা আগেই হয়েছে। ২০১১ সালে এবং ২০১৪ সালে। বিশ্বকাপের বেশ কটি ম্যাচ এ চট্টগ্রামেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপের ম্যাচও আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম। এবার চট্টগ্রামে আয়োজিত হবে অনূর্ধ্ব–১৯ নারী বিশ্বকাপের অনেকগুলো ম্যাচ। ২০২৭ অনূর্ধ্ব–১৯ নারী টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে এবার বাংলাদেশ ও নেপাল। ১৬টি দলকে নিয়ে আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য এই টুর্নামেন্টের পর্দা নামবে ৬ ফেব্রুয়ারি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) গতকাল টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করেছে। চট্টগ্রাম, সিলেট ও কাঠমান্ডুর চারটি ভেন্যুতে (কাঠমান্ডুতে দুটি স্টেডিয়াম) ১৬টি দল মোট ৪১টি ম্যাচে অংশ নেবে। বাংলাদেশে হবে বেশির ভাগ ম্যাচ। চট্টগ্রামে ১৪ ও সিলেটের মাঠে হবে ১২টি ম্যাচ। এছাড়া নেপালের মুলপানি আয়োজন করবে ৮টি ম্যাচ, কির্তিপুর ৭টি। টুর্নামেন্টের দুই সেমি–ফাইনাল ও ফাইনাল হবে চট্টগ্রামে। টুর্নামেন্টের আগের দুটি আসরেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আসরে শেফালি ভার্মার নেতৃত্বে এবং ২০২৫ সালে মালয়েশিয়ায় নিকি প্রসাদের নেতৃত্বে শিরোপা জেতে দলটি। এবার ভারত রয়েছে ‘এ’ গ্রুপে। এই গ্রুপের অন্য দলগুলো হলো আয়ারল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সহ–আয়োজক নেপাল। ২২ জানুয়ারি কাঠমান্ডুর টিইউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও সামোয়া। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে ‘সি’ গ্রুপে। আর ‘ডি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র ও স্কটল্যান্ড। আগামী ২১ জানুয়ারি উদ্বোধনী দিনে চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজক দেশ বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত। সকালে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতে বিকেলে অস্ট্রেলিয়া খেলবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে। এছাড়া কাঠমান্ডুর আপার মুলপানি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট গ্রাউন্ডে শ্রীলঙ্কা খেলবে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।

আরব আমিরাতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে যাত্রা শুরুর পর ২৩ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া ও ২৫ জানুয়ারি গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচে নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে স্বাগতিকদের তিন ম্যাচই হবে সিলেটে। গ্রুপ পর্ব চলবে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর প্রতিটি গ্রুপ থেকে তিনটি করে দল সুপার সিক্স পর্বে উঠবে। সুপার সিঙে নয়টি দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অংশ নিবে। সেখান থেকে প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে জায়গা করে নেবে। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ৪ ফেব্রুয়ারি সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। একই মাঠে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। সেমিফাইনাল ও ফাইনালের পরের দিন রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা বলেছেন, ‘আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ও নেপালকে বেছে নেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বিকাশে আইসিসির আস্থা ও বিনিয়োগের প্রতিফলন এতে প্রমাণিত হয়। ক্রিকেটের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং দুই দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশের বয়স ২০ বছরের নিচে হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম বড় যুব ক্রীড়া আসর আয়োজনের জন্য দেশ দুটি আদর্শ।’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তরুণ খেলোয়াড়দের একটি মঞ্চ তৈরি করে দেয় এই টুর্নামেন্ট। তিনি বলেন, ‘আইসিসি অনূর্ধ্ব–১৯ বিশ্বকাপ আমাদের খেলার ভবিষ্যৎ প্রতিভাদের তুলে ধরার মঞ্চ। নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করে তরুণ খেলোয়াড়দের শীর্ষ পর্যায়ে ক্যারিয়ার গড়ার পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য এটি সর্বোচ্চ পর্যায়ের সুযোগ’। ‘১৬টি দলের খেলোয়াড়রা বিশ্ববাসীর মনোযোগ আকর্ষণ করবে। একই সঙ্গে তারা অন্যান্য ক্রিকেটারদের কাছে পরিচিত ও অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে উঠবে এবং তাদের ক্রিকেটযাত্রা অব্যাহত রাখতে অনুপ্রেরণা জোগাবে’।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসিলেটে চট্টগ্রামের হার চট্টগ্রামে সিলেটের জয়
পরবর্তী নিবন্ধঅভিনয় ‘সেকেন্ড চয়েস’