আজ হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শিব চতুর্দশী। এ উপলক্ষে সীতাকুণ্ড ও মহেশখালীর আদিনাথ মন্দিরে আজ থেকে শুরু হচ্ছে শিব চতুর্দশী মেলা। সীতাকুণ্ডের মেলা চলবে তিন দিন। আদিনাথ মন্দিরের মেলা ১০ দিনব্যাপী।
আমাদের সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি জানান, মেলা উপলক্ষে এখানকার মঠ মন্দিরগুলো সেজেছে নতুন সাজে। মেলায় কয়েক লাখ তীর্থযাত্রীর সমাগম হবে বলে আশা উপজেলা প্রশাসন ও চন্দ্রনাথ স্রাইন কমিটি ও মেলা কমিটির। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা সীতাকুণ্ডে আসতে শুরু করেছেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মহাতীর্থে রয়েছে অসংখ্য মঠ মন্দির।
মেলা কমিটির সহ–সভাপতি অমলেন্দু কনক ও রুপন দে বলেন, পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে ব্যাসকুণ্ডে চারদিকে লাইটিং, পানির সু–ব্যবস্থা এবং ভ্রাম্যমাণ টয়লেট স্থাপন, বিশ্রামাগারসহ মহিলাদের আলাদা স্নানাগার স্থাপন করা হয়েছে। পুরো তীর্থভূমি অনেক সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা আশা করছি অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছরও মেলা সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হবে। এদিকে মেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল শাস্ত্রী বলেন, অন্যান বছরের মত এ বছরও প্রচুর পুণ্যার্থী এখানে পুণ্যস্নান, তর্পন, শ্রাদ্ধানুষ্ঠানসহ বিভিন্ন মঠ–মন্দিরে পূজা অর্চনার মাধ্যমে পূণ্যলাভের উদ্দেশ্যে এখানে আসতে শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে মেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, শিব চতুর্দশী মেলাকে ঘিরে সকল রকম নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তীর্থ যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য মেলা চলাকালীন সার্বক্ষণিক সহাযোগীতা করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আমাদের মহেশখালী প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজারের মহেশখালী দ্বীপের মৈনাক পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনাথ মন্দিরে আজ ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী পূজা ও ১০ দিনব্যাপী মেলা। প্রতিবছরের মতো এবারও এখানে লক্ষাধিক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেলা উপলক্ষে মৈনাক পাহাড়ের পাদদেশ থেকে মন্দির প্রাঙ্গণ পর্যন্ত বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে। আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে খাবার পানি, শৌচাগার এবং বিশ্রামের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আদিনাথ মেলা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম জানিয়েছেন, মেলার বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মুজিবুর রহমান জানান, মেলা প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুরো মন্দির এলাকা ও মেলা প্রাঙ্গণ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকবে। সমুদ্রপথে ট্রলার ও স্পিডবোটে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভাড়া নির্ধারণ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এতে ভাড়া নিয়ে দর্শনার্থীদের হয়রানি কমবে। মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কাউন্সিলর রতন কান্তি জানান, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি করে ১৮০ সদস্য বিশিষ্ট আদিনাথ মেলা পরিচালনা কমিটির গঠন করা হয়েছে। তাছাড়া ১৫০ সদস্য বিশিষ্ট স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেলে আদিনাথ মন্দির এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ইতিমধ্যে মেলায় রকমারি পণ্যের দোকান বসতে শুরু করেছে। ১০ দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দোকানিরা তাদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন। মাটির তৈরি তৈজসপত্র, বাঁশ–বেতের শিল্পকর্ম এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারের সমারোহে মেলা প্রাঙ্গণ এখন মুখর। তবে পূজার মূল সময়টুকুতে ভক্তদের ভিড় মন্দিরের ভেতরেই বেশি থাকে। আদিনাথ মন্দির সংস্কার কমিটির সদস্যরা জানান, শিব চতুর্দশী উৎসব ঘিরে দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীতে এখন সাজ সাজ রব। স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের উপস্থিতিও এবার বেশ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।












