সিলেটে চট্টগ্রামের হার চট্টগ্রামে সিলেটের জয়

জাতীয় ক্রিকেট লিগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার , ২২ অক্টোবর, ২০২৬ at ৯:২০ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচে সিলেট ভেন্যুতে হেরেছে চট্টগ্রাম কিন্তু চট্টগ্রাম ভেন্যুতে জিতেছে সিলেট। সিলেটের একাডেমি মাঠে চমৎকার বোলিং প্রদর্শনী মেলে ধরে চট্টগ্রামকে ১০ রানে হারায় খুলনা। লিগে এটি তাদের দ্বিতীয় জয়। ২৭৫ রানের লক্ষ্যে একপর্যায়ে বিনা উইকেটে ১২৯ রানে পৌঁছে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২৬৪ রানের বেশি করতে পারেনি চট্টগ্রাম। আগের দিনই চট্টগ্রামের ব্যাটিংয়ে ধস নামিয়েছিলেন রাকিব। চমৎকার উদ্বোধনী জুটির পর ২৫ রানের মধ্যে ৫ উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। এর ৪টিই নেন ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাচের শেষ দিন আহমেদ শরিফকে ফিরিয়ে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। স্বীকৃত ক্রিকেটে এটিই রাকিবের প্রথম ম্যাচ। সামিউনের মাথায় বল না লাগলে হয়তো অভিষেকের জন্য আরও লম্বা সময় অপেক্ষায় থাকতে হতো তার। গত জুলাইয়ে ঢাকার তৃতীয় বিভাগ লিগে খেলেন তিনি। এর আগে ইয়ুথ ক্রিকেট লিগ ও অনূর্ধ্ব–১৮ জাতীয় টুর্নামেন্টে খেলেন বাঁহাতি এই স্পিনার। রাকিবের পাশাপাশি দারুণ বোলিং করেন শেখ মেহেদি হাসান। শেষ দিনে তার স্পিনেই মূলত কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে যেতে পারেনি চট্টগ্রাম। জয় থেকে ১০১ রান দূরে থাকতে বুধবার ব্যাটিংয়ে নামে চট্টগ্রাম। তাদের ছিল ৫ উইকেট। দিনের শুরুতে ফিরে যান শামীম হোসেন। পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন অধিনায়ক ইরফান শুক্কুর। তবে পাঁচ ও দুই ছক্কায় ৩৭ বলে ৪৬ রান করে ফিরে যান তিনি। শেষ দিকের দুই ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ রুবেল ও আবুল হাসনাত চেষ্টা করেন দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে। তবে শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়নি তাদের লড়াই।

এদিকে চট্টগ্রাম ভেন্যুতে নাসুম–নাঈমের স্পিনে সিলেটের নাটকীয় জয় আসে। সিলেট ৩৭ রানে রংপুরকে হারায়। দিনের শুরুর গল্পটা ছিল রংপুরের বাঁহাতি স্পিনার আবু হাশিমের। তবে শেষ করলেন সিলেটের বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ। আরেক স্পিনার নাঈম আহমেদ তাকে দারুণ সঙ্গ দিলে রংপুরের মুঠোয় থাকা ম্যাচে দলকে জেতান অভিজ্ঞ স্পিনার। সাগরিকার বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন অমিত। মিলিয়ে যায় তার সেঞ্চুরির আশা। এক ওভার পর নাবিল সামাদকেও ফিরিয়ে সিলেটের ইনিংস গুটিয়ে দেন হাশিম। বাঁহাতি স্পিনার নেন ৪ উইকেট। এ দিন মাত্র ২ রান যোগ করতে পারে সিলেট। রংপুরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২১০ রানের। মিম মোসাদ্দেক ও ইকবাল হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে কিছুটা চাপে পড়ে তারা। তৃতীয় উইকেটে ৫৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে রংপুরের নিয়ন্ত্রণ ফেরান অনিক সরকার ও আবদুল্লাহ আল মামুন। সেখান থেকেই শুরু হয় নাসুম ও নাঈমের ঘূর্ণি জাদু। অনিককে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাসুম। পরে নাঈমের শিকার মামুন। সব মিলিয়ে মাত্র ৭০ রানের মধ্যে শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলে রংপুর। সম্ভাব্য জয়ের পথ থেকে উল্টো ব্যাটিং বিপর্যয়ে এবারের প্রথম পরাজয়ের তিক্ততা সঙ্গী হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন অনিক। মামুনের ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। সিলেটের হয়ে ৬৯ রানে ৫ উইকেট নেন নাসুম। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪১ ম্যাচে এটি তার ১২তম ৫ উইকেট। দুই ইনিংসে ৪টি করে উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা নাঈম আহমেদ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: সিলেট ১ম ইনিংস: ১৭৯,রংপুর ১ম ইনিংস: ২০৬। সিলেট ২য় ইনিংস: ২৩৭, রংপুর ২য় ইনিংস: ৪৫.৩ ওভারে ১৭৩। খেলা শেষে ম্যান অব দি ম্যাচ সিলেটের নাঈম আহমেদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন সাবেক সিজেকেএস সহ–সভাপতি হাফিজুর রহমান, সাবেক ক্রিকেটার আয়াজ করিম এবং ম্যাচ রেফারি নাইমুর রশিদ রাহুল।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্যারিয়ার সেরা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাসকিন,শরিফুল
পরবর্তী নিবন্ধসেমিফাইনাল আর ফাইনাল মিলে চট্টগ্রামে হবে ১৪ ম্যাচ