সাবেক এমপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, মুক্তিযোদ্ধা ড. মাসুদা এম. রশীদ চৌধুরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২১ সালের এইদিনে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মরহুমার আত্মার মাগফিরাতের জন্য ঢাকা, চট্টগ্রাম, হাটহাজারী ও কক্সবাজারের বাসভবনে এবং রাউজানের পারিবারিক কবরস্থান সংলগ্ন মসজিদে পবিত্র খতমে কুরআন ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি নেয়া ড. মাসুদা এম. রশীদ চৌধুরী একাধারে শিক্ষক, চিত্রশিল্পী, নারী উদ্যোক্তা, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবকসহ বহুগুণের অধিকারিণী ছিলেন। তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য ছিলেন। তিনি একমাত্র নারী ব্যবসায়ী নেত্রী যিনি সর্বোচ্চ ভোটে এফবিসিসিআই এর পরিচালক নির্বাচিত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ভোটে একাধারে তিনবার সিনেট সদস্য, তিনবার সিন্ডিকেট সদস্য ও একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হন। তিনি সার্ক চেম্বার অব কমার্স এর ভাইস প্রেসিডেন্ট, ইউনেস্কো ক্লাব অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট, ওআইসি টাস্কফোর্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধি, জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রেসিডিয়াম সদস্য, এসএমই ফাউন্ডেশন এর সহ–সভাপতি, একাধিকবার এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ এবং বারভিডা–র নির্বাচন কমিশনার, বিসিক এবং ইপিবির পরিচালক, নাসিবের সহ–সভাপতি, বাংলা ক্রাফ্ট এর সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট লিডার, আন্তর্জাতিক এশিয়ান আর্ট বিএনএল এর সমন্বয়কারী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ট্যুরিস্ট সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও মডারেটর, পরিকল্পনা কমিশন ও মাইডাস এর কনসাল্ট্যান্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং ক্লাবের উপদেষ্টা, খন্ডকালীন প্রফেসর–বুয়েট, চারুকলা অনুষদ এবং পিপলস ইউনির্সিটির ডিন পদে দায়িত্ব পালন করেন বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারীণি এই মহীয়সী নারী অর্জন করেন ৭৬টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ১৯৮৬ সালে ফিলিপাইনস থেকে ১৫ হাজার নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টির কারণে সে দেশের সর্বোচ্চ পদকে ভূষিত হন।
তিনি সমাজ বিজ্ঞান, নারী উদ্যোক্তা, রাজনীতি, চিত্রকলার উপরে লিখেছেন ৭৪টি বই। তার পিতা মরহুম আবুল মনসুর পাকিস্তানের শীর্ষ ব্যবসায়ী, মাতা মৌসুফা মনসুর বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা সংস্থার সভানেত্রী ও চট্টগ্রাম বাওয়া স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা। নানা খাঁন বাহাদুর আবুল মজিদ জিয়াউস সামস্ ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টের শিক্ষামন্ত্রী। দাদা খাঁন বাহাদুর টি আহম্মেদ উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম ডিপিআই ও ঢাকা ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা। পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের বিরোধী দলের নেতা একেএম ফজলুল কবির চৌধুরীর জ্যেষ্ঠ পুত্রবধূ তিনি। তার স্বামী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট এবিএম ফজলে রশীদ চৌধুরী। তিনি একমাত্র পুত্র ব্যারিস্টার সানজীদ রশীদ চৌধুরীর জননী। দেশে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার, সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘরকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, চট্টগ্রামের মুসলিম ইনস্টিটিউটের পুনঃনির্মাণে তার ভূমিকা অনস্বীকার্য।











