বিআইডব্লিউটিসির চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফেরি রুট বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া। জোয়ার–ভাটার কারণে এ নৌরুটে ফেরি ও স্টিমার চলাচল প্রায়ই ব্যাহত হয়। সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাটে জোয়ারের পানি এবং সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাটে ভাটার সময় নাব্যতা সংকটের কারণে প্রতিদিনই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী নৌযান চালানো সম্ভব হয় না। নৌরুটের এসব সমস্যা দেখতে গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাট পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী। এ সময় তিনি যাত্রী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (চট্টগ্রাম) মোহাম্মদ সেলিম, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাসেম, যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ উদ্দিন জনি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান, রহমতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন এবং আমরা সন্দ্বীপবাসীর সমন্বয়ক খাদেমুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
বাঁশবাড়িয়া ঘাটে নবনির্মিত হাই ওয়াটার পয়েন্ট ও মিড ওয়াটার পয়েন্ট পরিদর্শন করেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে বাঁশবাড়িয়া ঘাটের হাই ওয়াটার পয়েন্ট দ্রুত চালু এবং গুপ্তছড়া ঘাটের দুটি পয়েন্ট সংস্কারের অনুরোধ জানান।
যাত্রী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনায় এটিএম আব্দুল বারী বলেন, সন্দ্বীপ নৌরুটে আরও একটি ফেরি এবং ‘নিঝুম দ্বীপ’ সিট্রাক বরাদ্দ দেওয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি ৫০ আসনের একটি ওয়াটার বাস এ রুটে চালু করা যায় কিনা, সেটিও বিবেচনা করা হবে। তবে তিন নম্বর সতর্কতা সংকেতের সময় নৌযান চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেবে না বিআইডব্লিউটিসি।
এদিকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের সড়ক ও অবকাঠামোগত সমস্যাও দীর্ঘদিনের। বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপরের সড়কটি ইতোমধ্যে টেন্ডার হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। ঘাট পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলে চেয়ারম্যান জানতে পারেন, ফেরি ঘাটের তীরে ঠিকমতো ভিড়তে না পারায় অনেক সময় মালামালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এছাড়া প্রবল জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ বিলীন হয়ে গেছে। ফলে ফেরিঘাট পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি রয়েছে।
পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান ঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যা, যাত্রীসেবা এবং যানবাহন পারাপারের বিষয়গুলো দেখেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেন তিনি।
বাঁশবাড়িয়া–গুপ্তছড়া নৌরুটে জোয়ার–ভাটার কারণে ফেরি ও স্টিমার চলাচলে অনিয়মের পাশাপাশি ঘাটের সড়ক ও অবকাঠামোগত সমস্যায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনকারীদের। নতুন ফেরি, সিট্রাক ও ওয়াটার বাস চালুর উদ্যোগের পাশাপাশি ঘাটের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হলে এ রুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।











