সন্ত্রাসের বিষফোঁড়া থেকে রাঙ্গুনিয়ার মানুষ মুক্তি পেয়েছে

রাঙ্গুনিয়ায় আলোচনা সভায় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত

রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি | শনিবার , ৬ জুন, ২০২৬ at ১০:৩৮ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ায় সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রথম মাজার প্রাঙ্গণ এক সময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছিল উল্লেখ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, অতীতে এই পবিত্র স্থানে দেশের সাধারণ মানুষ কিংবা দলের নেতাকর্মীরা স্বাচ্ছন্দ্য গতিতে আসতে পারত না। এখানে আসলেই বিভিন্ন ধরনের হামলার শিকার হতে হতো। ২০১৬ সালে আমি যখন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, তখন খোদ আমার গাড়ি বহরেও এখানে হামলা চালানো হয়েছিল। সেই সন্ত্রাসের বিষফোঁড়া থেকে আজ রাঙ্গুনিয়ার মানুষ মুক্তি পেয়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সংগঠক মোহাম্মদ ইসহাকের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. খালেদ। উপজেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ হারুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন জিয়া স্মৃতি জাদুঘরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, শহীদ জিয়ার সাধারণ জীবনযাপন ও সততা আজ নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন। দেশের একজন রাষ্ট্রপতি হয়েও তিনি কতটা মিতব্যয়ী ছিলেন, তা কাজির দেউড়ির জাদুঘরে উনার ব্যবহৃত শেষ হয়ে যাওয়া টুথপেস্ট কিংবা নিজের পরিধানের সাফারি নিজে ধুয়ে ইস্ত্রি করার স্মৃতি দেখলেই বোঝা যায়। তিনি রাষ্ট্রীয় উপঢৌকন কখনো নিজের ঘরে নেননি, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়েছেন। অথচ বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। দায়মুক্তি আইন তৈরি করে বিদ্যুৎ খাতের নামে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের অবদান তুলে ধরে মেয়র বলেন, মাত্র ৩৫ বছর বয়সে ১৯৭১ সালে তিনি ‘আই রিভোল্ট’ বলে বিদ্রোহ করেছিলেন এবং কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি শুধু ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, রণাঙ্গনে সম্মুখ সমরে সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের প্রধান হিসেবে যুদ্ধ করেছেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা না রেখে তিনি ব্যারাকে ফিরে যান। পরবর্তীতে সিপাহীজনতার বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি দেশের হাল ধরেন এবং দেশের মানুষের কল্যাণার্থে ১৯ দফা কর্মসূচি প্রণয়ন করেন।

এই ১৯ দফা কর্মসূচির পেছনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী চুনতীর শাহ সাহেব হুজুরের ইসলামিক দর্শনের যোগসূত্র ও অনুপ্রেরণার কথাও তিনি বক্তব্যে স্মরণ করেন। দলের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, তৃণমূলের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে দেশনায়ক তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্ব আজ প্রমাণিত। তিনি সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, হেলথ কার্ড ও শিক্ষা কার্ডের ব্যবস্থা করছেন। এমনকি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার টাকা করে দুই ঈদে বোনাস দিয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, কথা বলার অধিকার এবং মানুষের ভোটের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্য করে মেয়র বলেন, বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের বহু নেতাকর্মী গুম, খুন ও অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে পরিবার নিয়ে ঠিকমতো ঈদ করতে পারেননি, সন্তানের মুখে দুধ তুলে দিতে পারেননি। হাইব্রিডদের ভিড়ে যাতে দলের এই ত্যাগী ও নির্যাতন সহ্য করা কর্মীরা হারিয়ে না যান, তা নিশ্চিত করতে হবে। দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদ নুরুসহ সকল শহীদ ও গুম হওয়া পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হবে। আলোচনা সভায় স্থানীয় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধরোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী