ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর; যিনি আওয়ামী লীগের পদধারী ছিলেন বলে দাবি বাদ পড়াদের। তার এ মনোনয়ন ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা। গতকাল সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণার নাম।
সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা শ্রীধাম ওড়াকান্দির পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। তিনি মতুয়া মহা–মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ওড়াকান্দি মীড উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি–বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়; যেখানে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান সুবর্ণা ঠাকুর। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নারী সংসদ সদস্য হতে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সেই সময় তিনি জোর তদবিরও করেন। এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এরপর থেকে শুরু হয় আলোচনা।
আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘হ্যাঁ, একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু সত্যি বলতে, এতে আমার কোনও সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছামত তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং–মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি। এ কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে কখনো গ্রহণই করিনি।’












