লোহাগাড়ায় শ্যালো মেশিন বসিয়ে পাহাড় থেকে অভিনব কায়দায় বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইয়াছিন পাড়া এলাকায় সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় কেটে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। এতে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে পাহাড়টি। পাশাপাশি হুমকির মুখে পাহাড়ি উদ্ভিদ ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল।
জানা যায়, প্রায় ১৫ দিন পূর্বে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ওই পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরপর থেকে দিন–রাত সমানতালে চলছে বালু উত্তোলন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র সরকারি পাহাড় কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্রের দাবি, এই চক্রে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকজন জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক দলের লোকেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে। তাদের প্রভাবে স্থানীয় অনেকেই প্রকাশ্যে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পান না। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, পুটিবিলা রামবিলা সড়ক হয়ে প্রত্যন্ত ইয়াছিন পাড়া এলাকায় পাহাড় কেটে বালু উত্তোলনের এমন কর্মকাণ্ড চলছে। সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড়টি প্রায় ১৬ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। স্থানীয় আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তির বাড়ির পাশ থেকে পাহাড়ের পাদদেশ কেটে বালু উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে শ্যালো মেশিন। পাশের পোলং খাল থেকে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে পাইপের মাধ্যমে পানি এনে পাহাড়ের পাদদেশে ফেলা হচ্ছে। পানির প্রবল চাপে পাহাড়ের মাটি ধীরে ধীরে আলগা হয়ে ভেঙে একটি গর্তে জমা হয়। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বালুমিশ্রিত পানি বের হওয়ার পর আরেকটি শ্যালো মেশিনের সাহায্যে তা সামান্য দূরের একটি স্থানে ফেলা হচ্ছে। সেখানেই তৈরি হচ্ছে বালুর স্তূপ। পরে সেই বালু বিভিন্ন যানবাহনে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়াই অভিনব কায়দায় এভাবে পাহাড় কেটে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সরাসরি পাহাড় কাটার পরিবর্তে পানির চাপ ব্যবহার করায় দূর থেকে পুরো বিষয়টি সহজে বুঝা যায় না। ফলে ক্রমান্বয়ে পাহাড়টি বিলীন হয়ে যাচ্ছে। শুধু পাহাড়ের আকৃতি পরিবর্তন নয়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যও ক্ষতির মুখে পড়েছে। পাহাড়ের গাছপালা ধ্বংস হওয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি, কীটপতঙ্গ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পাহাড় কাটা চলতে থাকলে এলাকার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পাহাড় কাটা ও গাছপালা ধ্বংসের কারণে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলও সংকুচিত হচ্ছে। পাহাড়ি এলাকায় থাকা পাখি, সরীসৃপ, কীটপতঙ্গসহ বিভিন্ন প্রাণী তাদের স্বাভাবিক আবাসস্থল হারাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পাহাড়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ের গাছপালা মাটিকে ধরে রাখে ও বৃষ্টির পানি শোষণে সহায়তা করে। কিন্তু নির্বিচারে পাহাড় কেটে ফেলা হলে মাটির ক্ষয় বাড়ে ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহও পরিবর্তিত হতে পারে। একটি পাহাড় ধ্বংস হলে শুধু মাটির একটি স্তূপ হারায় না। এরসাথে হারিয়ে যায় গাছপালা, প্রাণীর আবাসস্থল ও একটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিবেশ ব্যবস্থা।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ–বিন–আখন্দ জানান, পাহাড় কাটা আইনগত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












