শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব

আদালতের পর্যবেক্ষণ

আজাদী প্রতিবেদন | বৃহস্পতিবার , ১৮ জুন, ২০২৬ at ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ

শিশু ধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে এক জঘন্যতম অপরাধ। এ ধরণের অপরাধ শুধু শারীরিক ক্ষতি করে না বরং তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করে। গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা নগরীর বাকলিয়ার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সংঘটিত আলোচিত ৪ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক এ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। রায়ে মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরো ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বিচারক উল্লেখ করেন, শিশু সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও সুরক্ষার আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব। আদালত আরো উল্লেখ করেন, কোন ব্যক্তি যখন একটি শিশুর উপর যৌন নির্যাতন চালায়, তখন সে শুধু একটি শিশুর অধিকার লঙ্ঘন করে না বরং সমাজের নৈতিক ভিত্তিকেও আঘাত করে। এমন পরিস্থিতিতে শিশু ধর্ষণ অপরাধের ক্ষেত্রে আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া আবশ্যক। যাতে অন্যরা এমন অপরাধ করতে নিরুৎসাহিত হয়।

শিশু ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করায় আসামি সমাজের কলঙ্ক এবং আইনশৃঙ্খলার প্রতি হুমকি স্বরূপ বলেও আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন।

গত ২১ মে বিকালে সংঘটিত শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘিরে গতকাল সকাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের সামনে সাধারণ লোকজনের ভিড় বাড়তে থাকে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ আইনজীবীদেরও আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়। দুপুরের দিকে আদালত রায় পড়া শুরু করেন এবং একপর্যায়ে রায় ঘোষণা করেন। এসময় আসামি মনির হোসেন কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন। রায় পড়ার সময় তিনি চুপচাপ ছিলেন। কারো সাথে কোন কথা বলতে দেখা যায়নি তাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি টিম তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ছিলেন। বুলেট প্রুপ জ্যাকেট ও মাথায় হেলমেট পরিয়েই তাকে আদালত কক্ষে নিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা পুলিশের টিম। রায় ঘোষণা শেষেও তাকে একইভাবে আদালতের নির্দেশে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। সাধারণ আইনজীবীরা বলছেন, সাধারণত এতো দ্রুত মামলার রায় ঘোষণা হয় না। এ মামলার ক্ষেত্রে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনার মতো অন্যান্য ঘটনার ক্ষেত্রেও যদি দ্রুত রায় ঘোষণা করা হয়, তাহলে ধর্ষণের মতো জঘন্য কাজ সমাজে কমে আসবে। আসামির বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অভিযোগে দায়ের করা মামলা রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সমর্থ হয়েছে বলেও রাষ্ট্রপক্ষ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকোতোয়ালী থানার ওসি প্রত্যাহার
পরবর্তী নিবন্ধচারদিনেও ধরাছোঁয়ার বাইরে ৫ অস্ত্রধারী