শহীদ নূর হোসেন দিবস আজ

আজাদী ডেস্ক

রবিবার , ১০ নভেম্বর, ২০১৯ at ৩:৪৭ পূর্বাহ্ণ
97

‘নূর হোসেন, শহীদ নূর হোসেন/ গণতান্ত্রিক মুক্তির সোপান/ বস্ত্রহীন বুকে-পিঠে লেখা/ ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক/ গণতন্ত্র নিপাত যাক’/ মিছিলে উত্তাল রাজপথ/ অগ্রভাগে নূর হোসেন, দেহ-মুখে শ্লোগান/ স্বৈরবুলেটে রক্ত ঝরে/ রক্ততিলকে সাজে রাজপথ/ থেমে যায় ধাবমান নূর হোসেন/ নিথর-নিস্তব্দ, রক্তশূন্য অসাড় প্রাণ/ এগিয়ে যায় চেতনা, চেতনা চির অম্লান/ স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, হয়েছে সিস্টেমের পরিবর্তন/ ইতিহাস বনে গেছে ৯০’র আন্দোলন।’
আজ শহীদ নূর হোসেন দিবস। ১৯৮৭ সালে জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ১০ নভেম্বর নূর হোসেন
শহীদ হন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। বিভিন্ন সংগঠন এ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
নূর হোসেন ১৯৬১ সালে ঢাকার নারিন্দায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মুজিবর রহমান ছিলেন বেবি ট্যাঙি চালক। নূর হোসেনের পৈতৃক নিবাস পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ঝাটিবুনিয়া গ্রামে। স্বাধীনতার পর থেকে তাঁদের পরিবার ঢাকায় বনগ্রাম রোডের ৭৯/১ নং বাড়িতে বসবাস শুরু করে। নূর হোসেন প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন বনগ্রামের রাধাসুন্দরী প্রাইমারি স্কুলে। ঢাকার গ্রাজুয়েট হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে তিনি পড়াশোনা বন্ধ করে মোটর ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। স্বৈরাচার এরশাদশাহীর বিরুদ্ধে ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর ‘ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি’ গ্রহণ করে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল এরশাদ সরকারের পদত্যাগ এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবি আদায়। সেদিন নূর হোসেন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর এক অভিনব পন্থা অবলম্বন করেন। তিনি গায়ের জামা খুলে উদোম বুক ও পিঠে সাদা রঙে লিখিয়ে নেন ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক : গণতন্ত্র মুক্তি পাক’। গণমিছিলে শামিল জনতার মাঝে সহজেই আলাদাভাবে তাঁকে চেনা যাচ্ছিল। গণতন্ত্রের নির্ভীক এই সৈনিককে চিহ্নিত করতে স্বভাবতই স্বৈরশাসকের পুলিশবাহিনীর বিলম্ব হয়নি। পুলিশের গুলিতে জিপিওর সামনে জিরো পয়েন্টে নূর হোসেন নিহত হন। কিন্তু তাঁর বুকে-পিঠে লেখা শ্লোগানই সারা দেশে জনতার শ্লোগানে পরিণত হয়। ফলে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পতন ঘটে এরশাদ সরকারের। বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অমর এই শহীদের নামানুসারে জিরো স্কোয়ারের নামকরণ হয়েছে নূর হোসেন স্কোয়ার। বাংলাদেশের ডাকবিভাগ ১৯৯১ সালে তাঁর নামে প্রকাশ করেছে স্মারক ডাকটিকেট।

x