শতাধিক মরা গাছ সরাচ্ছে না কেউ, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া ডিসি সড়ক

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | মঙ্গলবার , ২১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:২৩ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার উত্তর জনপদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘পারুয়া ডিসি সড়ক’ এখন পথচারী ও চালকদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মরা গাছ একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সামান্য বাতাসেই এসব গাছের ডালপালা ভেঙে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রানিরহাট থেকে ঘাটচেক পর্যন্ত ডিসি সড়কের ফুলবাগিচা গ্রাম হতে সাতঘরিয়া পাড়া পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য বিশালাকৃতির গাছ মরে শুকিয়ে আছে। অনেক গাছের গোড়া পচে আলগা হয়ে গেছে। উত্তর রাঙ্গুনিয়ার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের চলাচলের এই প্রধান পথে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাঈদ ও মো. পারভেজ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করে। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলেই মরা গাছের ডালপালা পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। স্কুলশিক্ষক শাহ আলম বলেন, এ সড়ক দিয়ে সাধারণ পথচারী ছাড়াও স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজগামী শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে। জনস্বার্থে এই মরা গাছগুলো দ্রুত অপসারণ করা প্রয়োজন। ফুলবাগিচা এলাকার ইউপি সদস্য আবদুল কাদের বলেন, গাছগুলো অপসারণের জন্য আমরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রেজুলেশন করে আবেদন দিয়েছিলাম, কিন্তু তা আর এগোয়নি। জুনজুলাইয়ে নতুন চারা রোপণের সময় আসছে, অথচ মরা গাছগুলো এখনো সরানো হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় সভায় একাধিকবার আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হলেও এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। প্রশাসনের এই দীর্ঘসূত্রতায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ইছামতী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, গাছ অপসারণের ক্ষেত্রে কিছু আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুতই টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবোতল ও জুতা চুরি হওয়ায় পাগলীর বেপরোয়া আক্রমণ, ভাঙল ১০টি গাড়ি
পরবর্তী নিবন্ধমামলার তদন্তে ৩ বছর পার, বিচারের আশায় পরিবার