লালদিয়া টার্মিনাল হবে মাইলফলক

পতেঙ্গায় ভিত্তি স্থাপন অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে

আজাদী প্রতিবেদন ম | সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়া কন্টেনার টার্মিনাল একটি মাইলফলক হবে। গতকাল রোববার দুপুরে পতেঙ্গায় এপিএম টার্মিনালস লালদিয়ার ভিত্তি স্থাপন (গ্রাউন্ডব্রেকিং সেরেমনি) অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ডেনমার্কভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই টার্মিনাল শুধু চট্টগ্রাম কিংবা বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই টার্মিনালের কাজ শেষ হবে। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সব রকম সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। বিশ্বের জন্য আমরা দ্বার উন্মুক্ত করতে চাই। শুধু লজিস্টিক হাব হিসেবে নয়, সব রকম বিনিয়োগের জন্য। এটার সাথে আরো কয়টি পোর্ট করতে যাচ্ছি। চট্টগ্রামে আরো কয়টি ইকোনমিক জোন হবে। চট্টগ্রামের মানুষের যে প্রত্যাশা, বাংলাদেশের মানুষের যে প্রত্যাশা, চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী হবে। বাণিজ্যিক রাজধানী কেউ করে না, বাণিজ্যিক রাজধানী হয়। এ সমস্ত কাজের মাধ্যমে যখন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়বে, সেটাই হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে বেসরকারি খাত। সরকারের কাজ ব্যবসা পরিচালনা করা নয়, বরং বেসরকারি খাতকে ব্যবসা পরিচালনার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি, নীতিগত সহায়তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে সরকার সরকারিবেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। চট্টগ্রামকে লজিস্টিক্যাল হাবে পরিণত করা আমাদের লক্ষ্য। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এই অঞ্চলের জন্য। তাই চট্টগ্রাম বন্দরের সম্ভাবনাকে পুরোদমে কাজে লাগাতে হবে।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, আজ নতুন অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে। আমাদের আমদানিরপ্তানি বাণিজ্য আন্তর্জাতিক মানের হতে চলেছে। এপিএম টার্মিনাল লালদিয়া পিপিপি পদ্ধতিতে বড় বিনিয়োগ। অনেক ফ্যাসিলিটিজ থাকবে। প্রতি বছর ৮ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হব। চট্টগ্রাম বন্দর অর্থনীতির প্রাণশক্তি। এখানে বাণিজ্যিক হাব আছে, সেটি প্রসারিত হচ্ছে। এটি চলমান থাকবে। আরও অনেক প্রতিষ্ঠান বন্দরে বিনিয়োগে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। যেখানে যাকে দেশের স্বার্থে ব্যবহার করা যায় সেটি করতে সক্ষম হচ্ছে।

বাংলাদেশে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, ডেনমার্ক বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক অংশীদার। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে একসাথে কাজ করতে আমরা সব সময় আগ্রহী। লালদিয়া টার্মিনালের মাধ্যমে বাংলাদেশ এই বার্তা দিচ্ছে যে, বাংলাদেশ বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত।

এপিএম টার্মিনালসের সিইও রমেশ ডেভিড বলেন, প্রথম পিপিপি, প্রথম সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং প্রথম গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল। এখানে আমরা নতুন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করব। তিন বছরের মধ্যে টার্মিনালটি বিশ্বের অন্যতম আধুনিক কন্টেনার টার্মিনালে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই স্থাপনায় প্রায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ জেটি, সাতটি শিপটুশোর গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩০টি দূর নিয়ন্ত্রিত গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং প্রায় ৪৫টি বৈদ্যুতিক ট্রাক থাকবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মেজর গেটওয়ে। এ বন্দর দেশের ৯২ শতাংশ আমদানিরপ্তানি এবং ৯৮ শতাংশের বেশি কন্টেনার হ্যান্ডলিং করে। ডেনমার্কে গ্রিন টেকনোলজির কিছু টার্মিনাল দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। দশ বছরে আমাদের কন্টেনার হ্যান্ডলিং দ্বিগুণ হচ্ছে। আমরা বিদেশি বিনিয়োগ পার্টনারকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাই। এপিএম টার্মিনালস আন্তর্জাতিক মানের বন্দর ব্যবস্থাপনায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ। তিন বছরের মধ্যে আপনারা লালদিয়াতে এর প্রতিফলন দেখবেন। এটিই ২৪/৭ সচল প্রথম টার্মিনাল হতে চলেছে। আমাদের বর্তমান সক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণ কন্টেনার ধারণ ক্ষমতার জাহাজ ভিড়বে লালদিয়া টার্মিনালে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পিএম টার্মিনালস বিভির গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লিমেন্টেশন জেক ক্রেইগ ও নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্পে গতি
পরবর্তী নিবন্ধমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্বের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে জামায়াত এমপিদের রিট মামলা