সেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত হলে দুর্নীতির সুযোগ কমে : অর্থমন্ত্রী

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প উদ্বোধন

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ৩১ আগস্ট, ২০২৬ at ৭:৫৬ পূর্বাহ্ণ

অতীতে সরকার, প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিও সংস্থার কাজে সমন্বয় ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এসময় তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হচ্ছেসরকার পরিচালনা ও অর্থনীতি পরিচালনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করা। বর্তমান সরকার এসব পক্ষের (প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিও সংস্থা) সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে নিবিড়ভাবে কাজ করছে, তাদের উৎসাহ ও সহায়তা দিচ্ছে। ফলে দুর্নীতি হ্রাসসহ কাজ দ্রুত ও সঠিক হচ্ছে।

তিনি গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্প’এর উদ্বোধন ও প্রকল্প পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। এতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রামের পরিচালক শরৎ কুমার চৌধুরী, এইচএসবিসি ব্যাংক বাংলাদেশের সিইও মো. মাহবুবুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের জলবায়ু পরিবর্তন কর্মসূচি, নগর উন্নয়ন কর্মসূচি এবং দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির পরিচালক ড. মো. লিয়াকত আলী।

উল্লেখ্য, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়নে ব্র্যাকের মাধ্যমে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। আমির খসরু বলেন, বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনসহ উন্নয়ন কাজে সরকারের পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিও অংশগ্রহণ বাড়ানো হচ্ছে। এর ফলে বন্যা আক্রান্ত জনসাধারণের সুবিধা গ্রহণের মাত্রা আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।

তিনি বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে যাদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা বেশি আছে তারা এগিয়ে এলে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি পুনর্বাসন কাজ অনেক সহজ হয়। তাই অন্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার বন্যার তাৎক্ষণিক সহায়তায় প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কাজ করে। তবে সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়া সরকারের একার পক্ষে কঠিন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও স্যানিটেশনসহ বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসনের কাজগুলো সম্পন্ন করতেসরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব প্রয়োজন। সেবা কার্যক্রমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকে যুক্ত করলে দক্ষতা বাড়ে এবং অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগ কমে। আমির খসরু বলেন, সেবা প্রদানের কার্যক্রমগুলোকে সরকার একটি অংশীদারিত্বের জায়গায় নিয়ে গেছে। এটি শুধু কাজের পুনরাবৃত্তি বন্ধ করার বিষয় নয়; কোনো দুর্যোগ পরিস্থিতি সঠিকভাবে মোকাবিলা করতে হলে ‘ত্রাণ ও সহায়তা’ সুষ্ঠুভাবে বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি উদ্যোগে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে অনেক ক্ষতি ও অপচয় হয়। এর পেছনে দুর্নীতি, অপচয় ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার অভাব দায়ী। এ কারণে সরকারের প্রতিটি কাজে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, এই অংশীদারিত্ব শুধু বন্যাপরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আমরা নতুন একটি অর্থনৈতিক মডেল ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ চালু করেছি। সেখানে সরকার, বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোর অংশীদারিত্ব রয়েছে। কমিটিতে সংশ্লিষ্ট সবাই রয়েছেন এবং আমরা যৌথভাবে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছি। বন্যাপরবর্তী কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো অভিযোগ আমার কাছে আসেনি। এটিকে আমি এই অংশীদারিত্বের সাফল্য হিসেবে দেখছি।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের পাইলট প্রকল্পেও মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ ত্রুটি পাওয়া গেছে, যা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে খুবই কম। এ কার্যক্রম কোনো রাজনৈতিক বিবেচনায় পরিচালিত হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না। বিভিন্ন মাধ্যমে কার্যকরভাবে সেবা পৌঁছে দেওয়ার এই ব্যবস্থাটি একদিকে দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে অপচয় ও দুর্নীতি কমাতে নজরদারির ভূমিকা পালন করছে।

বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলেন, বন্যা পরবর্তী ত্রাণ সহায়তাসহ সবকাজে সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে সবকিছু সমন্বয় ও তদারক করা হয়েছে। ফলে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস ফিরে পেয়েছে। পুনর্বাসন কাজের সুবিধার্থে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করার জন্য ব্র্যাককে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন সবসময় সহায়তা দেবে।

সভায় জানানো হয়চট্টগ্রাম অঞ্চলে জুলাই মাসের আকস্মিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসমূহের নিরাপদ আবাসন, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি, জীবিকা, কৃষি এবং শিক্ষা খাত পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা এবং নগরীর ৩৮ নং ওয়ার্ডে ব্র্যাক পুনর্বাসনের কাজ করবে। সাত মাস মেয়াদী এ প্রকল্পের ব্যয় হবে ১০ কোটি টাকা।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না : রাষ্ট্রপতি