২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ঘটেছে জোড়া অঘটন। শিরোপার অন্যতম দাবিদার জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস–দুই ইউরোপীয় পরাশক্তিই টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছে। তাদের হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে লাতিন আমেরিকার প্যারাগুয়ে ও আফ্রিকার মরক্কো। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে বিদায় করে টুর্নামেন্টের প্রথম বড় চমক উপহার দিয়েছে প্যারাগুয়ে। অন্য ম্যাচে গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালিস্ট মরক্কো হারিয়েছে শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসকে। দুটি ম্যাচই নিষ্পত্তি হয়েছে ১২০ মিনিটের লড়াইয়ের পর টাইব্রেকারে। মন্তেরেইয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে মরক্কো। বলের দখল ছিল ৭০ শতাংশ। ১১টি শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে নেদারল্যান্ডস ছয়টি শটের মাত্র দুটি রাখতে পারে পোস্টে। তবু ম্যাচে প্রথম গোল করে ডাচরাই। মরক্কোর বঙে ঢুকে পড়ে যাওয়ার আগে ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল জোরালো শটে জালে পাঠান কোডি গাকপো। গোলের পর হাঁটু গেড়ে বসে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন গাকপো। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী নোয়া ফন ডার বিজ জানান, পৃথিবীর আলো দেখার আগেই মারা গেছে তাদের অনাগত সন্তান এলিজা রাফায়েল গাকপো। ব্যক্তিগত সেই শোক নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন ডাচ ফরোয়ার্ড।
৭৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে মরক্কো। এরপর অতিরিক্ত সময়েও আর কোনো দল গোল করতে পারেনি। ফলে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানেই নাটকীয়তা। নেদারল্যান্ডস পাঁচ শটের মধ্যে তিনটিই নষ্ট করে। দ্বিতীয় শটে জাস্টিন ক্লুইভার্টের বল লাগে পোস্টে। চতুর্থ শটে পোস্টে মারেন কুইন্টেন টিম্বার। পঞ্চম শটে ক্রিসেনসিও সামারভিলের শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু। অন্যদিকে মরক্কো সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে টাইব্রেকার জেতে ৩–২ ব্যবধানে। বিশ্বকাপে টানা তৃতীয়বার টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিল নেদারল্যান্ডস। এর আগে ২০১৪ সালের সেমিফাইনাল ও ২০২২ সালের কোয়ার্টার ফাইনালেও টাইব্রেকারে তাদের হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৮ বিশ্বকাপে অবশ্য খেলতেই পারেনি ডাচরা।
বোস্টনে বিশ্বকাপের প্রথম বড় অঘটনের জন্ম দেয় প্যারাগুয়ে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে টাইব্রেকারে ৪–৩ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত ৩০ মিনিট শেষে স্কোর ছিল ১–১। টাইব্রেকারের প্রথম পাঁচ শটেও ৩–৩ সমতা থাকে। পরে সাডেন ডেথে জনাথন টাহ শট উড়িয়ে মারলে ভুল করেননি হোসে কানালে। তাতেই নিশ্চিত হয় প্যারাগুয়ের ঐতিহাসিক জয়।
১৬ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা প্যারাগুয়ে শুধু শেষ ষোলোয় ওঠেনি, ভেঙে দিয়েছে জার্মানির টাইব্রেকারে অপরাজিত থাকার রেকর্ডও। এর আগে বিশ্বকাপে চারবার টাইব্রেকারে খেলেও কখনো হারেনি জার্মানরা। প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক গোলরক্ষক অরলান্দো গিল। টাইব্রেকারে দুটি শট ঠেকানোর পাশাপাশি মূল ম্যাচেও করেন ছয়টি দারুণ সেভ। প্রথমার্ধে বলের দখল বেশি থাকলেও ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর গোলে পিছিয়ে পড়ে জার্মানি। দ্বিতীয়ার্ধের ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজের হেডে সমতায় ফেরে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
এরপর একের পর এক আক্রমণ করেও আর গোলের দেখা পায়নি জার্মানি। হাভার্টজ, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস ও লিরয় সানের সব প্রচেষ্টাই আটকে যায় প্যারাগুয়ের রক্ষণে। অতিরিক্ত সময়ে জনাথন টাহর হেড জালে জড়ালেও গোলরক্ষকের ওপর ফাউলের কারণে সেটি বাতিল হয়। টাইব্রেকারের শুরুতেই হাভার্টজের শট ঠেকিয়ে দেন গিল। পরে কিমিখ ও মুসিয়ালা গোল করলেও নিক ভোল্টেমাডের প্রচেষ্টাও রুখে দেন প্যারাগুয়ের এই গোলরক্ষক। শেষ পর্যন্ত সাডেন ডেথে কানালের সফল শট আর জনাথন টাহর ব্যর্থতায় শেষ হয় জার্মানির বিশ্বকাপযাত্রা।
২০১৪ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানি, গত দুই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার পর এবার ফিরছে প্রথম নকআউট ম্যাচ খেলেই। অন্যদিকে ২০১০ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট প্যারাগুয়ে আবারও শেষ আটে ওঠার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল। শেষ ষোলোতে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স–সুইডেন ম্যাচের বিজয়ী।










