পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে চিকিৎসা বিজ্ঞানের প্রসারে ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ (রাঙামেক)। ২০১৪–১৫ শিক্ষাবর্ষে অস্থায়ী ক্যাম্পাস হিসেবে প্রথম পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয় রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিট ভবনে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রকল্পটি ইতোমধ্যে পাস হলেও এখনো দরপত্র আহ্বান প্রক্রিয়ায় যাওয়া যায়নি। এছাড়া, ৫৮টি শিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৫ জন। শূন্য পদের সংখ্যা ৩৩টি।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠাকালীন অস্থায়ী ক্যাম্পাসেই চলছে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। তবে সরকারি মেডিকেল কলেজসমূহে ৫০ আসনের বিপরীতে ৭৫টি আসন নিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর পর থেকে শ্রেণীকক্ষের তীব্র সংকটে ভুগছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে শিক্ষক না থাকাসহ শিক্ষকদের বেশিরভাগ পদই শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মানসম্মত পাঠদান কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ একনেক সভায় রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পটি পাস হয়। তবে প্রকল্প পাসের এক বছর পার হলেও এখনো দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ইতোমধ্যে টেন্ডার (দরপত্র) প্রক্রিয়াটি মূল্যায়ন কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে উত্থাপিত হয়েছে, বলছেন মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তারা।
এদিকে, নিজস্ব ক্যাম্পাসের সংকটে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে নিজস্ব হাসপাতাল নির্মাণ করা না গেলেও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ল্যাবের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও টেকনেশিয়ানের সংকটসহ নানামুখী সংকটে ধুঁকছে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ।
কলেজের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলছেন, আগে শ্রেণীকক্ষের সংকট থাকলেও শ্রেণী কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। কিন্তু প্রতি ব্যাচে ৫০টি আসন থেকে ৭৫টি আসনে উন্নীত করার পর ব্যবহার উপযোগী শ্রেণীকক্ষের সংকট দেখা দিয়েছে। বিষয়টি সমাধানে ইতোমধ্যে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনের দুই–তিনটি কক্ষ শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য অস্থায়ীভাবে ব্যবহারের আবেদন জানাবে কর্তৃপক্ষ। ব্যবহার অনুমতি পেলে এ সংকট আপাতত কেটে যাবে। যেহেতু মেডিকেল কলেজ স্থাপন প্রকল্পটি পাস হয়েও প্রকল্প বাস্তবায়নের পর স্থায়ী ক্যাম্পাস ভৌত অবকাঠামোগত সংকটগুলোর নিরসন হবে।
রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গেছে, মেডিকেল কলেজটিতে বেসিক ও ক্লিনিক্যাল বিষয়ের মধ্যে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ৫৮টি। এরমধ্যে কর্মরত আছেন ২৫ জন শিক্ষক, শূন্য পদের সংখ্যা ৩৩টি। তবে ৩৩ পদ শূন্য থাকলেও এর বিপরীতে ১৮ জন শিক্ষক এখানে সংযুক্তিতে আছেন। অধ্যাপক পদে ১১টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৪ জন, সহযোগী অধ্যাপক ২২ জনের বিপরীতে রয়েছেন ৯ জন এবং সহকারী অধ্যাপক পদে ২৫ জনের বিপরীতে আছেন ১২ জন। অধ্যাপক ৭টি, সহযোগী অধ্যাপক ১৩টি ও সহকারী অধ্যাপক ১৩টি শূন্য পদ রয়েছে। তবে সহযোগী অধ্যাপক পদে ৭ জন ও সহকারী অধ্যাপক পদে ১২ জন শিক্ষক সংযুক্তিতে আছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. প্রীতি প্রসূন বড়ুয়া আজাদীকে বলেন, শিক্ষক সংকট, শ্রেণীকক্ষের সংকট, ল্যাবের যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা ও ল্যাব–টেকনেশিয়ানের সংকট তো রয়েছে। তবে এই মুহুর্তে আমাদের শিক্ষক সংকটের বিষয়টি নিরসন হওয়া খুব জরুরি। আমাদের এখানে অনেকগুলো বিভাগে এখন কোনো শিক্ষক নেই। তবে শ্রেণীকক্ষের সংকটসহ অন্যান্য ভৌত–অবকাঠামোগত সংকটগুলো স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মিত হলে নিরসন হয়ে যাবে, তবে সেটি কিছুটা সময় সাপেক্ষ। শিক্ষক সংকটের বিষয়টি শিক্ষক পদায়ন হলে শীঘ্রই নিরসন করা সম্ভব।












