যে কারণে বিরোধ নগর আওয়ামী লীগে

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১ জানুয়ারি, ২০২২ at ৬:২১ পূর্বাহ্ণ

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দক্ষতা-ঐক্য ও ভিত্তির সুনাম ছিল রাজধানীসহ সারাদেশ জুড়ে। নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী নগর আওয়ামী লীগের সর্বপ্রথম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে পরবর্তীতে যখন সভাপতির দায়িত্ব নেন তখন থেকেই নগর আওয়ামী লীগ একটি সুসংগঠিত সংগঠন হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের মুখে মুখে ছিল। কিন্তু মহিউদ্দিন চৌধুরীর সেই সুসংগঠিত নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড গত কয়েক বছরে তেমন ভালো যাচ্ছে না। সংগঠনের কর্মকাণ্ড নিয়ে তৃণমূল থেকে শীর্ষ নেতাকর্মীদের মধ্যে অনৈক্য-বিরোধ এবং হতাশা ভাব বিরাজ করছে। বিশেষ করে সদ্য বিদায়ী বছরে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দক্ষতা ও ঐক্যে চরম ফাটল ধরেছে।
চলমান ইউনিট সম্মেলনের নানান অনিয়ম নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ গত ২২ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে সরাসারি দেখা করে লিখিত অভিযোগ করেছেন। নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের এমন অভিযোগ পাওয়ার পর ওয়ার্ড সম্মেলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। আগামী ৮ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা চট্টগ্রাম এসে মহানগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সাথে বৈঠক করার পর নগরীর ওয়ার্ড সম্মেলন শুরু হবে বলে জানা যায়।
কেন্দ্রীয় নেতারা আসলে ইউনিট সম্মেলন নিয়ে নানান অনিয়মের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার জন্য নগর আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা গত মঙ্গলবার রাতে নগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও সিডিএ চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষের ফিরিঙ্গী বাজার বাসভবনে বসেছেন। ঐ বৈঠকে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ইউনিট সম্মেলনে অনিয়মের বিষয়টি নগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকেও অবহিত করেছেন।
ঐ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, নগর আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল, খোরশেদ আলম সুজন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ফারুক, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, চন্দন ধর, মশিউর রহমান, আবদুল আহাদ ও কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী প্রমুখ।
মূলত নগর আওয়ামী লীগের চলমান ইউনিট সম্মেলন নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হচ্ছে নগর আওয়ামী লীগের প্রয়াত সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীদের বৃহৎ একটি অংশকে বাদ দিয়ে ইউনিট সম্মেলন করা হচ্ছে। প্রয়াত এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী অনুসারী নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন ইউনিটে তাদের পক্ষের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কৌশলে সদস্য করা হয়নি। কেন্দ্র থেকে পাঠানো সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির ফরমের বাইরে নগর আওয়ামী লীগ থেকে একটি ফরম দেওয়া হয়েছে। সেই ফরমে এমনভাবে তথ্য চাওয়া হয়েছে, যাতে শুধুমাত্র নিজস্ব পছন্দের বলয়ের লোকজনই সদস্য হতে পারবেন। নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যে তথ্য বিবরণী ফরমটি সরবরাহ করা হয়েছে সেটি নিয়ে প্রতিটি ইউনিটে আপত্তি তোলা হয়েছে। একই আপত্তি তুলেন নগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারাও।
এই ব্যাপারে নগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতা আজাদীকে জানান, মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের চলমান সম্মেলনের নানান অনিয়ম সম্পর্কে প্রকৃত তথ্য কেন্দ্রের কাছে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে ‘কেন্দ্র থেকে মহানগর আওয়ামী লীগের ইউনিট, ওয়ার্ড ও থানা কমিটির সম্মেলন করার নির্দেশ দেয়ার পর মহানগর আওয়ামীলীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় এই কার্যক্রমকে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। সিদ্ধান্ত সমূহ হলো-প্রত্যেক ওয়ার্ডে মহানগর আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সম্মেলনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করার জন্য মনোনীত করা হবে। পর্যাপ্ত পরিমান (ওয়ার্ডের চাহিদা মোতাবেক) তথ্য ফরম প্রত্যেক ওয়ার্ডে বিতরণ করা হবে। উক্ত তথ্য ফরম গুলো আবেদন ফরম হিসেবে বিবেচিত হবে। এই আবেদন ফরম গুলো আবেদনকারী পূরণ করে ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দকে জমা দিবেন। জমাকৃত আবেদন ফরম গুলো যাচাই-বাচাই করে যারা সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন-তাদের একটি তালিকা মহানগরে সুপারিশ আকারে পাঠাবেন। মহানগর আওয়ামী লীগ উক্ত সুপারিশের ভিত্তিতে নতুন সদস্য নির্বাচিত করবেন। এই প্রক্রিয়া যেই ওয়ার্ডে শেষ হবে- সেই ওয়ার্ডে ইউনিট সম্মেলন শুরু করতে হবে। কিন্তু অত্যান্ত দুঃখের বিষয় উপরোক্ত কোন সিদ্ধান্ত না মেনে মহানগর আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার ইচ্ছা মোতাবেক ওয়ার্কিং কমিটির সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্রকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ইউনিট কমিটি-গঠন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যার কারণে দলের ভেতরে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।’