যথেচ্ছ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বিধিমালা জারি

ব্যাটারি রিকশার সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার

| শুক্রবার , ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ at ৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

ব্যাটারিচালিত রিকশার যথেচ্ছ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন বিধিমালা জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় চলাচলরত ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রে এ বিধিমালা প্রযোজ্য হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়। বিধিমালার নাম হবে ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বিধিমালা, ২০২৬। খবর বিডিনিউজের।

একে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ব্যাটারিচালিত ই–রিকশা হিসেবে, যার যাত্রী ধারণের ক্ষমতা দুই থেকে চারজন। এর সর্বোচ্চ গতি নির্ধারণ করা হয়েছে ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় ই–রিকশার সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার।

বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন ছাড়া কোনো রিকশা সড়কে চলাচল করতে পারবে না। নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফি জমার রসিদ ও ফিটনেস সনদ জমা দিতে হবে। কর্তৃপক্ষ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন দেবে। দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার ই–রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা। চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই–রিকশার নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। ফিটনেস সনদের জন্য ফি দিতে হবে ১০ হাজার টাকা।

প্রতিটি নিবন্ধিত ই–রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর ও নম্বর প্লেট দেওয়া হবে। নম্বর প্লেটে সিটি করপোরেশনের নাম, অঞ্চলের কোড ও গাড়ির নম্বর নির্ধারিত রঙের পটভূমিতে সাদা অক্ষরে লিখতে হবে। একটি ই–রিকশার নিবন্ধনের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। আর এর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ বছর।

একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে এক বা একাধিক সিটি করপোরেশন থেকে সর্বোচ্চ পাঁচটি ই–রিকশার নিবন্ধন নেওয়া যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই–রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশে চালানো যাবে না।

জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও বাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (বিআরটি) সড়কে ই–রিকশা চলাচল করতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে অঞ্চলভিত্তিক চলাচলের সড়ক নির্ধারণ করবে। এক অঞ্চলে চলাচলের অনুমতি পাওয়া ই–রিকশা অন্য অঞ্চলে যেতে পারবে না। চালককে সব সময় সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে।

চালক ছাড়া নির্ধারিত দুই বা চারজনের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না। যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্যও পরিবহন করা যাবে না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির মির্জা ফয়সল
পরবর্তী নিবন্ধবাসার চাবি নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ৭৫ বছরের বৃদ্ধা খুন