আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আকলিমা আকতার (১৪)। মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার রিকশাচালক বাবা মো. সেলিম উদ্দিন।
আকলিমা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম উদ্দিনের মেয়ে এবং বোয়ালিয়া–বারশত উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হয়েও পড়ালেখার পাশাপাশি সে সংসারের কাজে মাকে সহযোগিতা করত।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘরে রান্নার কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত গ্যাস সিলিন্ডারের আগুনে আকলিমার মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত আনোয়ারা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। গত পাঁচ দিন ধরে সেখানেই চিকিৎসা চলছে আকলিমার। তবে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা বাবা মেয়ের চিকিৎসা খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
আকলিমার বাবা মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, আমার মেয়ে রান্নার কাজে সহযোগিতা করতে গিয়ে গ্যাসের আগুনে দগ্ধ হয়েছে। তার মুখ পুরোপুরি ঝলসে গেছে। মেয়ের কষ্ট দেখে নিজেকে সামলাতে পারছি
না। আমার কাছে থাকা সামান্য টাকা দিয়ে কয়েকদিন চিকিৎসা চালিয়েছি। এখন উন্নত চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই।
তিনি আরও বলেন, মেয়েকে হাসপাতালে রেখে রিকশাও চালাতে পারছি না। আয়–রোজগার বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের খরচ ও মেয়ের চিকিৎসা কীভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের কাছে আমার মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানাচ্ছি।
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দিন বলেন, আগুনে দগ্ধ শিক্ষার্থীর চিকিৎসার খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।












