তিন বছরের মেয়াদ শেষ হলেও এখনো এক তৃতীয়াংশ কাজও হয়নি চট্টগ্রামে গণপূর্তের ১২৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা সরকারি ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িতে বাস্তবায়ন হচ্ছে এক হাজার ১৩২ কোটি টাকার প্রকল্পটি। ৮ থেকে ১৯ তলার নির্মিতব্য ভবনগুলোর মধ্যে মাত্র একটির দ্বিতীয় তলার ছাদ ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ কাজ শুরু হয়নি ২৫টি বাড়িতে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমবেশি ১৬-১৭টি বাড়িতে কাজ শুরু হয়েছে। করোনাকালে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে গতি পাচ্ছে না প্রকল্পটির কাজ।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের শুরুতে নগরীর আগ্রাবাদ, খুলশী, নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটি, মুরাদপুর, জামাল খান, চানমারি রোড, আইচ ফ্যাক্টরি রোড, লালখান বাজার, আমবাগান, সদরঘাট, কোরবানিগঞ্জ এলাকার ৩৬টি পরিত্যক্ত বাড়িকে দখলমুক্ত করে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এতে ৮ তলা ৩টি, ৯ তলা ৪টি, ১০ তলা ১১টি, ১১ তলা ১০টি, ১২, ১৩ ও ১৪ তলা ২টি করে, ১৮ ও ১৯ তলা বিশিষ্ট একটি করে ভবন রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ২০টি ভবন নির্মিত হচ্ছে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটিতে।
চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১২৫০ বর্গফুটের ৯৪টি, ১০০০ বর্গফুটের ৭৫৯টি, ৮০০ বর্গফুটের ৩৯৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন শেষে পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের ছাড় পাওয়ার পর গত ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জিও জারি হয়। চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রথম মেয়াদ নির্ধারিত ছিল। বর্তমানে আবারও মেয়াদ বাড়ানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরিত্যক্ত ৩৬টি বাড়ির মধ্যে ১১টিতে ৫-২৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে আগ্রাবাদ সিডিএ’র একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে মাত্র তৃতীয় তলার কাজ চলছে। এখনো মামলা সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি ১০টি বাড়িতে। আবার দুইটি বাড়ি না ভাঙতে অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসনও। তন্মধ্যে একটি বাড়িতে মাত্র একজন সরকারি কর্মকর্তা বসবাস করেন। প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী এই দুই বাড়িতেই ৫৬টি ফ্ল্যাট নির্মাণের কথা রয়েছে। অন্যদিকে নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির ৩নং রোডের ৭/এ-১ নং বাড়িটিতে বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যে কারণে ভবনটির এখনো দরপত্রও আহবান করেনি প্রকল্প বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম গণপূর্ত রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৌমেন মল্লিক রোববার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘অনেকগুলো বাড়ির দখল বুঝে পেয়েছি। সেগুলোতে কাজ শুরু করেছি। কিছু বাড়ির দখল আমরা এখনো বুঝে পাইনি। কিছু বাড়িতে সরকারি অফিস আছে। সেগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সুযোগ হয়নি। এখন ১৬-১৭টি বাড়িতে ভাঙ্গাসহ অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলমান আছে। সামনে আরও কয়েকটি বাড়ি খালি করতে পারবো বলে আশা করছি।’
প্রকল্প পরিচালক গণপূর্ত মেনটেনেন্স সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম দৈনিক আজাদীকে বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ২১টি বাড়ি খালি করা সম্ভব হয়েছে। এমনিতে করোনাকালে তহবিলের স্বল্পতা ছিল। কাজের গতি কম ছিল। এখন কাজের গতি বেড়েছে। খালি বাড়িগুলোতে ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।’












