লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণার পর ফুটবল অঙ্গনজুড়ে নেমে এসেছে এক আবেগঘন পরিবেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অধিনায়ককে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় ভাসাচ্ছেন ভক্তরা। সেই আবেগঘন মুহূর্তে মেসির স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক খোলা চিঠিতে স্বামীর ফুটবলীয় যাত্রার ইতি টানাকে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। অশ্রু বা হতাশায় না ভেসে মেসি–পত্নী আনন্দের সঙ্গেই পুরো সফরটিকে স্মরণ করেছেন। জীবনের চড়াই–উতরাইয়ের কথা মনে করে তিনি লেখেন, ‘তোমাকে এভাবে একটি অধ্যায়ের ইতি টানতে দেখাটা কতটা গর্বের! কত বছর, কত স্মৃতি, অজস্র আনন্দ আর সেই সঙ্গে বহু ঘাত–প্রতিঘাত।’ মেসির কঠিন সময় ও পরিবার হিসেবে পাশে থাকার মুহূর্তগুলো তুলে ধরে আন্তোনেলা লেখেন, ‘আমি তোমাকে কষ্ট পেতে দেখেছি, ভেঙে পড়তে দেখেছি, আবার নতুন উদ্যমে উঠে দাঁড়াতে দেখেছি। যখন পরিস্থিতি অনুকূলে ছিল না, তখনও তোমাকে হাল না ছেড়ে চেষ্টা করে যেতে দেখেছি। আর এতগুলো বছর পর নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে এবং আমাদের জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনগুলো উপভোগ করতে দেখার সৌভাগ্যও আমার হয়েছে।’ একজন কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের পাশাপাশি বাবা হিসেবে মেসির মহানুভবতার কথা উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘তবে এই পুরো গল্পের একটি বিষয় আমাকে গভীরভাবে আলোড়িত করে, আমাদের সন্তানরা নিজেদের চোখে এটি প্রত্যক্ষ করে বড় হয়েছে। তারা তাদের বাবাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের জন্য লড়াই করতে দেখেছে, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিশ্বাস রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে দেখেছে। পরবর্তীতে তারা সেখানে উপস্থিত থেকে বাবাকে সবকিছু জয় করতে এবং বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে দেখেছে।’ মেসি ও আন্তোনেলা দম্পতির সন্তান থিয়াগো (১৩), চিরো (১০) এবং মাতেও (৮) হয়তো এখনো তাদের বাবার এই মহাকাব্যিক সাফল্যের পূর্ণ প্রভাব বুঝে উঠতে পারেনি। সেই প্রসঙ্গে আন্তোনেলা বলেন, ‘হয়তো কোনো একদিন তারা সত্যিই তোমার এই ইতিহাসের বিশালতা বুঝতে পারবে। তবে আজ তারা কেবল তাদের বাবাকে নিয়ে অত্যন্ত গর্বিত।’ চিঠির শেষ অংশে স্বামীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি তোমাকে নিয়ে গর্বিত। তোমার দীর্ঘ যাত্রা, তোমার সব বাধা পেরিয়ে আসা এবং সর্বোপরি এসব মুহূর্তের পেছনে থাকা মানুষটিকে নিয়ে আমি গর্বিত। তোমার পাশে থেকে এসব প্রত্যক্ষ করতে পারাটা পরম সৌভাগ্যের। আমরা তোমাকে অসীম ভালোবাসি।’












