ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতবিরোধের খবরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, সর্বোচ্চ নেতা মুজতাবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ করা এ মুহূর্তে খুবই কঠিন। তবে মুজতাবার উপস্থিতি দেশের পথচলায় ইরানিদের জন্য অনেক বড় শক্তি বলেও মন্তব্য করেছেন পেজেশকিয়ান। খবর বিডিনিউজের।
চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইরানে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় মুজতবা খামেনি আহত হয়েছিলেন। একই হামলায় তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছিলেন। এরপরই সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পান মুজতাবা। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। তিনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়েছেন। গত মাসে তার বাবার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানেও দেখা যায়নি মুজতাবাকে। তবে জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকলেও ইরানের পাল্টা জবাবে মুজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন বলে দাবি করেছেন পেজেশকিয়ান। মুজতাবা খামেনি লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতে মুজতাবার পর্দার আড়ালে থাকা অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে গত মাসে বাবার জানাজা অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত না থাকায় জল্পনা জোরাল হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান সর্বোচ্চ নেতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তার (মুজতাবা) সঙ্গে ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে এবং তার কাছ থেকে খুবই সৌজন্যমূলক ও অত্যন্ত যুক্তিসংগত আচরণ পেয়েছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি কিছু বিদ্বেষপূর্ণ মানুষকে তাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা এবং তার ভিন্ন একটি ভাবমূর্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছে। আলোচনা ও সংঘাত সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মুজতাবা প্রেসিডেন্টকে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদিকে সমর্থন দিয়েছেন–এমন খবরের মধ্যেই মুজতাবাকে নিয়ে পেজেশকিয়ানের এইসব কথাবার্তা সামনে এল। ইসরায়েলি সমপ্রচারমাধ্যম চ্যানেল ১৪, তেহরানের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, মুজতাবা খামেনি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের হুমকি নিরুৎসাহিত করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কার্যত তার প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার কেড়ে নিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের নেতৃত্বের সঙ্গে নীতিগত মতবিরোধের সময় পেজেশকিয়ান বারবার পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন।












