বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বাবার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে দুই বন্ধুকে সঙ্গে করে ঘুরতে বের হয়েছিল কিশোর শাহাদাত হোসেন সামি (১৬)। বের হওয়ার সময় মায়ের হাতে একটি ডিম দিয়ে বলেছিল, ‘মা, আমার জন্য ডিমটা সিদ্ধ করে রাখো, এসে ভাত খাবো।’ কিন্তু আর ফেরা হয়নি তার। চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের পটিয়ার কমলমুন্সিরহাট এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারায় সামি ও তার বন্ধু ওয়ালিদ আল তাসনিম (১৭)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের আরেক বন্ধু মুহাম্মদ তানভীর জয়কে (১৭) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ১টার দিকে আনসার ক্যাম্পের সামনে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সামি চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের শেখ মুহাম্মদ পাড়ার আকতার হোসেনের ছেলে। নিহত ওয়ালিদ পটিয়ার আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। একই এলাকার জাহিদুল আলমের ছেলে। গুরুতর আহত তানভীর জয় এবার চক্রশালা কৃষি ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। তার বাড়িও ইউনিয়নের শেখ মুহাম্মদ পাড়া এলাকায়। তার বাবার নাম আবদুল আলম।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ফোরকান ও পুলিশ সূত্র জানায়, কক্সবাজারমুখী হানিফ পরিবহনের একটি বাস বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পালসার মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে–মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেলের চালক শাহাদাত হোসেন সামির মৃত্যু হয়। পরে আহত অবস্থায় ওয়ালিদ আল তাসনিম ও মুহাম্মদ তানভীর জয়কে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওয়ালিদ মারা যান।
ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ফোরকান জানান, সামি তার বড় ভাইয়ের কাছ থেকে বাবার মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে দুই বন্ধুকে সঙ্গে করে পটিয়ার দিকে যাচ্ছিল। ঘুরাঘুরি শেষে কমলমুন্সিরহাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি আরও জানান, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সামি তার মাকে একটি ডিম দিয়ে বলেছিল, ‘মা, আমার জন্য এই ডিমটি সিদ্ধ করে রাখো, এসে ভাত খাব।’ কিন্তু মা ডিম সিদ্ধ করে রাখলেও সেই ডিম আর খাওয়া হয়নি। ছেলে ঘরে ফিরেছে নিথর দেহ হয়ে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক সুচিতা দেব জানান, আহত দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে মারা যান। অপরজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পটিয়া ক্রসিং হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর বাসটি আটক করা হলেও চালক পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।












