প্রায় এক বছর সমুদ্রে কাটানোর পর ভার্জিনিয়ার বন্দরে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। এই সময়ে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার মিশনের পাশাপাশি ইরান যুদ্ধে অংশ নিয়েছে এই রণতরী। সিএনএন লিখেছে, রেকর্ড গড়া এই দীর্ঘ যাত্রায় জাহাজের ভেতরে একবার অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, বারবার টয়লেট বিকল হওয়ার মত বিপত্তিতেও পড়তে হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর আর কোনো মার্কিন রণতরী এত দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অপারেশনাল কার্যক্রমে মোতায়েন থাকেনি। আর ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের এই সফর ছিল বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাধিক সামরিক লক্ষ্য বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে। শনিবার নরফোক বন্দরে রণতরীটিকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন হাজারো মানুষ। রণতরীটি যখন ডকে এসে পৌঁছায়, তখন নৌসেনাদের পরিবারের সদস্যরা উল্লাসে ফেটে পড়েন। জাহাজে থাকা নাবিকরা হাত নেড়ে অপেক্ষায় থাকা স্বজনদের অভিবাদন জানান। নাবিকদের স্বাগত জানাতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগ দেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ এবং এই ডেস্ট্রয়ারগুলো যা করেছে, তা এককথায় অসাধারণ ও অভূতপূর্ব। সিএনএন লিখেছে, রণতরীগুলো সাধারণত সর্বোচ্চ সাত মাসের জন্য মোতায়েন করার মত করে তৈরি করা হয়, কিন্তু ফোর্ডকে সমুদ্রে থাকতে হয়েছে ১১ মাস। মার্কিন অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধসহ বেশ কিছু অভিনব ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির কারণেই রণতরীর সফর দীর্ঘায়িত হয়।
তবে এই দীর্ঘ সফর মসৃণ ছিল না। গত মার্চ মাসে ফোর্ডের লন্ড্রি এলাকায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পুনরায় যেন আগুন না জ্বলে তা নিশ্চিত করতে ক্রুদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এই ক্ষয়ক্ষতির কারণে প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের ঘুমানোর জায়গা বা বাঙ্ক হারান, তবে কেউ গুরুতর আহত হননি। আগুন লাগার কারণে বেশ কিছুদিন জাহাজে কাপড় ধোয়ার কাজ বন্ধ ছিল, যা ক্রুদের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দেয়। কডল শনিবার জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের ওই ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।













