মাঠপর্যায়ের পরিচ্ছন্নকর্মীদের গাফিলতির দায় তদারকি কর্মকর্তাদের নিতে হবে

সতর্ক করলেন মেয়র

আজাদী প্রতিবেদন | সোমবার , ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ at ৬:৫৮ পূর্বাহ্ণ

নগরের পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে মাঠপর্যায়ে কর্মীদের গাফিলতির দায় তদারকি কর্মকর্তাদের নিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পরিচ্ছন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড সুপারভাইজারসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ৩২শ পরিচ্ছন্নকর্মীর দায়দায়িত্ব আপনাদের হাতে। যদি কোনো কারণে এই পরিচ্ছন্নকর্মীরা কাজ করতে গাফিলতি করে, সে দায়দায়িত্ব আপনাদেরকে বহন করতে হবে। ওই পরিচ্ছন্নকর্মীদের সাথে আর কথা বলব না, কথা বলব সরাসরি আপনাদের সাথে এবং আপনাদেরকেই এ ব্যাপারে দায়ী করব। গতকাল রোববার টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাকর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের সচিব মো. আশরাফুল আমিন ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। শাহাদাত বলেন, আমরা যে ড্রেনগুলো ক্লিন করেছি, সেখানে ড্রেনের পাশে যে ময়লাগুলো স্তূপ আকারে পড়ে আছে, সেটা যারা ড্রেন ক্লিন করেছে তারা যদি নিয়ে না যায়, আপনাদের দায়িত্ব সেটা পরিষ্কার করা। তিনি বলেন, মিড আইল্যান্ডে সৌন্দর্যবর্ধন করছি। ফুলের চারা ও বিভিন্ন ঔষধি গাছ আমরা রোপণ করছি। সেখানে দেখতে পাচ্ছি বিভিন্নভাবে বিভিন্ন লোকজন থাকার চেষ্টা করছে, যারা ড্রাগস অ্যাডিক্টেড তারা এই কাজগুলো করছে। তারা যাতে এখানে ঘুমাতে না পারে কিংবা তারা এখানে বাসস্থান তৈরি করতে না পারে, এই দায়িত্বও আপনাদের। সেখানে ঠিকমতো পানি দিচ্ছে কি না দেখতে হবে। গাছগুলো যাতে মারা না যায়। কারণ অনেক কষ্ট করে আমরা এগুলো রোপণ করেছি।

মেয়র বলেন, মিড আইল্যান্ডে স্টিল স্ট্রাকচার ভেঙে গেলে ঠিক করার দরকার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্টকে জানাতে হবে। এগুলো আপনাদের কাজ না, কিন্তু আপনাদেরকে জানাতে হবে। কারণ দিন শেষে এই সিটি কর্পোরেশনের যেহেতু আমরা বিভিন্ন কর্মকর্তাকর্মচারী, পুরো দায়িত্ব আমাদের ঘাড়েই আসে। কাজেই দায়িত্ব ইঞ্জিনিয়ারের, এজন্য আমি চুপ মেরে গেলামএটা না। ডা. শাহাদাত ওয়াসা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কাজের ফলে জনগণের ভোগান্তি হলে এড়িয়ে না যাওয়ার নির্দেশনা দেন। বলেন, জনগণের কোনো কষ্ট যাতে না হয়, সে ব্যাপারে আমাদেরকে সর্বোচ্চ দৃষ্টিপাত আমাদের রাখতে হবে।

এ সময় মেয়র চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক ক্লিন সিটি এবং জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। এ ধরনের বৃষ্টিতে যাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সেজন্য পানির প্রবাহের পথ নির্বিঘ্ন থাকা নিশ্চিত করতে হবে। থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে প্রাকৃতিকভাবে পানি জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

মেয়র বলেন, নগরের ডেঙ্গু পরিস্থিতির উন্নয়নে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো তথা হটস্পটগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কোতোয়ালী, হালিশহর, বন্দর, আকবরশাহ, বাকলিয়া ও চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতি অনুযায়ী বিশেষ মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে। নগরের কোথাও ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেলে সে এলাকায় যাতে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত বৃদ্ধি রোধ করা যায় সেজন্য প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খালনালায় চলে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা যখন বাসায় ময়লা সংগ্রহ করতে যাবেন, নিয়মিত তাদের কাছে বর্জ্য হস্তান্তর করবেন। এতে রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার থাকবে, মশার উপদ্রব কমবে এবং নগর পরিবেশ সুস্থ থাকবে। ক্লিন সিটি বাস্তবায়ন কেবল পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ দায়িত্ব। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশের মান উন্নত হবে এবং চট্টগ্রাম একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি জানান, চসিকের দুটি বর্জ্যাগারে জমাকৃত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রিন ফুয়েল ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে নগরীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখুব গরম চা-কফি পানে ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩ গুণ