মাটিরাঙায় বন ও প্রাণের উৎসবে জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি | রবিবার , ১ নভেম্বর, ২০২৬ at ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ

পাহাড়ের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য উদযাপনে খাগড়াছড়ির মাটিরাঙায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘বন ও প্রাণের উৎসব–২০২৬’।

পিটাছড়া ফরেস্ট ও বায়োডাইভার্সিটি কনজার্ভেশন ইনিশিয়েটিভের আয়োজনে দিনব্যাপী এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

গতকাল শনিবার মাটিরাঙার পূর্ব খেদাছড়ার ৩৫ নম্বর খেদাছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় মাঠে খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া উৎসবের উদ্বোধন করেন।

পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেলের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জ্বাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. জিনাত মাহরুখ বানু, প্রধান নির্বাহী ও সহ–প্রতিষ্ঠাতা, ওয়াইল্ডটিম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ড. মো.আনুয়ারুল ইসলাম,ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আফিস সালেহ, খাগড়াছড়ির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ঞ্যাহ্লা মং এবং রাঙ্গামাটির বনসংরক্ষক মো. আব্দুল আওয়াল সরকার।

বক্তারা বলেন দেশে যখন ব্যক্তিগত ও সরকারি উদ্যোগে বন উজাড় ও বাস্ততন্ত্র ধ্বংসের মহোৎসব চলছে, তার বিপরীতে পিটাছড়া ফরেস্ট ও বায়োডাইভার্সিটি কনজার্ভেশন ইনিসিয়েটিভের প্রাণ প্রকৃতি রক্ষায় এই উদ্যোগ একটি অনুপম দৃষ্টান্ত। এর প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেলসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তারা।

বৃহত্তর উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আফিস সালেহ ভবিষ্যতে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষনের যেকোনো উদ্যোগের সাথে পিটাছড়া ফাউন্ডেশনের সাথে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের জ্বাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগের সাবেক প্রধান ড. জিনাত মাহরুখ বানু বলেন এই ধরনের উদ্যোগ ব্যক্তিগত পর্যায়ে আরো গড়ে উঠবে এমন প্রত্যাশা তার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোঃ আ্ে‌নায়ারুল ইসলাম বলেন পিটাছড়ার মত উদ্যোগ সামাজিক মূলধন। এই ধরনের মূলধন যত বাড়াতে পারবো আমরা তত ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।

রাঙ্গামাটির বনসংরক্ষক মো. আব্দুল আওয়াল সরকার বলেন বিভিন্ন কারনে পার্বত্য চট্টগ্রামের বন উজাড় হচ্ছে। পিটাছড়ার মত উদ্যোগ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরীতে প্রত্যক্ষ ভুমিকা রাখছে।

খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে এইরকম একটা উদ্যোগ পরিচালিত হওয়া এবং আজকের এই সমৃদ্ধ আয়োজনের ব্যাপারে বিস্ময় ও মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন,সরকার পরিবেশ সংরক্ষণে অত্যন্ত সচেতন। মানুষের বেইমানীর কারণে প্রকৃতি অত্যন্ত অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে। প্রকৃতি নানা বৈরী আচরণের মধ্য দিয়ে আমাদের বারবার সতর্ক করছে। ওয়াদুদ ভূঁইয়া সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান। জীবন ও প্রকৃতির মেলবন্ধন ঘটানো এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদযাপনের এই উৎসবে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ অবদান রাখায় রিতু পারভীকে সমাজ উদ্যোগ সম্মাননা, সোহেল শ্যামকে প্রাণবৈচিত্র সংরক্ষণ সম্মাননা এবং হরিরামপুর শ্যামল নিসর্গকে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

শেষে ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলার প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল থেকেই শুরু হয় পিটাছড়া সাংস্কৃতিক দল ও বিন্দু বিদ্যানিকেতনের শিল্পীদের পরিবেশনায় বর্ণিল আদিবাসী নৃত্য ও সংস্কৃতি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি পরিবারে আর্থিক অনুদান
পরবর্তী নিবন্ধফটিকছড়িতে পোশাকহীন বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার