ভারত হাসিনা কার্ড খেলে, আবার বন্ধুত্বও চায় : সালাহউদ্দিন

সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে

| রবিবার , ৯ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারত দ্বিচারিতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ভারত একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক প্লাটফর্ম দিচ্ছে, আবার বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলছেএই দুই বিপরীতমুখী অবস্থান একসঙ্গে চলতে পারে না। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাব আয়োজিত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। খবর বিডিনিউজের।

সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, ভারতকে পরিষ্কার বুঝতে হবে যে, আপনারা হাসিনা কার্ড খেলবেন আর একইসঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন তা সম্ভব নয়। সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক মর্যাদা এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন এবং নানা উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ভারত সরকার তাকে বারবার মিটিং ও কথা বলার সুযোগ দিচ্ছে, যা একটি বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে কাম্য নয়।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে এ বিএনপি নেতা, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৪০০এর বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আসমান থেকে হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি করে শিশু ও নারীদের হত্যা করা হয়েছে। এমন একজন দণ্ডিত অপরাধী এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীকে ভারত কীভাবে একজন গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে আশ্রয় ও প্রশ্রয় দেয়, সেই প্রশ্ন বাংলাদেশের মানুষের।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ‘ভারতকে যা দিয়েছেন তা তারা চিরদিন মনে রাখবে।’ আজ সেই প্রতিদান হিসেবেই ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে।

ভারতের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা আপনাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাই, ইন্টার ডিপেন্ডেন্সি বা পারস্পরিক নির্ভরশীলতাকে সম্মান করি। তবে আমরা কখনোই আওয়ামী লীগ হব না। আমরা বাংলাদেশের স্বার্থকে সবার উপরে রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা রাজনীতি করেছেন ঢাকাকে দিল্লি বানিয়ে। তারা দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব না দিয়ে একটি বিশেষ দেশের মদদে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। কিন্তু ২০২৪এর গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। মানুষ এখন রক্ত দিতে শিখেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ ও সংস্কারের বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ অস্বাভাবিক দীর্ঘ করতে চেয়েছিল। তারা বলেছিল, মানুষ নাকি তাদের আরও পাঁচ বছর চায়। তারা বিপ্লবী সরকারের কথা বলে সংবিধানকে পাশ কাটাতে চেয়েছিল। কিন্তু জনগণের আকাঙ্ক্ষা হলো একটি সুষ্ঠু নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ক্ষমতা হস্তান্তর।

রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পলিটিক্যাল কালচার পাল্টাতে হবে। আমার নেতা তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে শপথ নিয়েই বিরোধী দলের নেতাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন। আমরা সংবিধানে এমন সংশোধন নিয়ে আসব, যাতে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ ১০ বছরের বেশি আর না হয়। সরাসরি সংসদ সদস্য ছাড়া স্বাধীনভাবে সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন, সেই পদ্ধতি নিয়ে আসব আমরা। আমরা নিয়ে আসব, চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স থাকবেআপার হাউস এবং লোয়ার হাউসের মধ্যে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা বলে যারা নির্বাচিত হবে, তাদের ক্ষমতাই হবে সংবিধানের মূল শক্তি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সেই পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, শহীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে চাই। ২০২৪ আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই গণঅভ্যুত্থান মানুষের চোখ খুলে দিয়েছে। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন এই মাটিতে আর হবে না। সবাই মিলে আমরা অপরাজনীতি এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদুই দশক পরও বাণিজ্যিক রাজধানী হয়নি চট্টগ্রাম
পরবর্তী নিবন্ধজুলাইয়ের শহীদ ও আহত ১০ ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী