দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনারের ব্যাটের দাপটে মিলিয়ে গেল বাংলাদেশের আশা। জয় তো দূরের কথা, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হলো না খুব একটা। আগের দিনে চরম ব্যাটিং ব্যর্থতার পর চতুর্থ দিনে সেখান থেকে উত্তরণ আর হলো না, বরং বোলিংও দেখালো ব্যর্থতা। মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিংয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে কিছুটা উদ্ধার করে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটির স্বাদ পান নাঈম হাসান। ১৭০ রানের লক্ষ্য দিতে পারে দল। উইকেট আর ম্যাচের বাস্তবতায় রানটাকে চ্যালেঞ্জিং বলেই মনে হচ্ছিল। কিন্তু স্পিনাররা পারলেন না তেমন কোনো প্রভাব ফেলতে। ক্যারিবিয়ানরা জিতে গেল অনায়াসেই। বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা মিলিয়ে ম্যাচের প্রথম তিন দিনে খেলা হয়নি ৬০ ওভারের বেশি। চতুর্থ দিনেও বারবার থেমেছে খেলা। তারপরও চতুর্থ দিন শেষের বেশ আগেই ম্যাচ শেষ। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি জোমেল ওয়ারিক্যান দ্বিতীয় ইনিংসেও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে নায়কদের একজন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক রস্টন চেইসও।
অবশ্য ক্যারিবিয়ানদের রান তাড়ায় আম্পায়াররা যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম ভাবতেন, তাহলে ম্যাচের চিত্র অন্যরকম হতেও পারত। তাদের চারটি সিদ্ধান্তে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা টিকে গেছেন আম্পায়ার্স কলে, এর তিনটিই ছিল আম্পায়ার নিতিন মেননের। প্রথমটি ছিল প্রথম ওভারেই। খালি চোখে আউট বলেই মনে হচ্ছিল জন ক্যাম্পবেলকে। আম্পায়ার আউট দিলেন না। বাংলাদেশের রিভিউয়ে বাঁহাতি ওপেনার রক্ষা পেলেন একটুর জন্য। লাঞ্চের পর তিনি ও ব্র্যান্ডন কিং এমন জুটি গড়লেন, নাজমুল হোসেন শান্তর দলের আশা শেষ সেখানেই।
শুরুতে যদিও দুই প্রান্তে মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিনে বেশ নড়বড়েই মনে হচ্ছিল কিং ও ক্যাম্পবেলকে। তবে দুই স্পিনারই খেই হারালেন দ্রুত। ভালো কিছু ডেলিভারির ফাঁকে মিশিয়ে দিলেন আলগা বল। দুই ক্যারিবিয়ান ওপেনার ক্রমে আত্মবিশ্বাসী হয়ে দ্রুত বাড়ালেন রান। এই জুটি যখন থামল, ম্যাচের উত্তেজনা তখন একরকম শেষ।
১৮ ওভার পর প্রথমবার আক্রমণে আনা হলো পেস। সেই পেসার শরিফুল দ্বিতীয় ওভারে ক্যাম্পবেলকে ৪৯ রানে বোল্ড করে ভাঙলেন ১১২ রানের জুটি। আরেক পেসার হাসান মাহমুদ পরে ফেরান তেজনারাইন চন্দরপলকে। তবে কিং ও কাভেম হজের জুটি দলকে জিতিয়ে দেয় সহজেই। ১১৫ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮১ রানে অপরাজিত থাকেন কিং, ২৭ বলে অপরাজিত ৩১ হজ। বাংলাদেশের তিন স্পিনারের বোলিংই ছিল ধারহীন। সবচেয়ে হতাশ করেছেন দলের সফলতম বোলার তাইজুলই।
সকালে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে। বড় ধাক্কা আসে সাতসকালেই। যার ব্যাটে তাকিয়ে ছিল দল, সেই জাকের আলি বিদায় নেন দিনের প্রথম ওভারেই। ওয়ারিক্যানের বলে বাউন্ডারি মারার পরের বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর লড়াইটা চালিয়ে যান নাঈম। তাকে বেশ কিছুটা সময় সঙ্গ দেন হাসান মাহমুদ। ওয়ারিক্যান বাধা হয়ে দাঁড়ান আবার। আর্ম বলে হাসানকে ফিরিয়ে ম্যাচে নবম শিকার ধরেন তিনি। এরপর তাইজুল রিভার্স সুইপে একটি চার মারলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
শেষ জুটিতে শরিফুল ইসলামকে নিয়ে নাঈম পৌঁছে যান আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটিতে। পঞ্চাশের পরপরই ছক্কার চেষ্টায় নাঈমের বিদায়ে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। ১৭০ রানের লক্ষ্য দিয়ে তখনও জিইয়ে ছিল জয়ের আশা। কিন্তু ক্যারিবিয়ানরা বুঝিয়ে দিয়েছেন বাস্তবতা। সিরিজের পরের টেস্ট সিলেটে শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার।










