গরিব মানুষের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস ডিম। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেড়েই চলেছে ডিমের দাম। গতকাল বৃহস্পতিবার নগরীর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ একটি ডিমের দাম পড়ছে সাড়ে ১২ টাকা। অন্যদিকে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকায়। অথচ গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয়েছে ১৮৫ টাকায়। হঠাৎ করে ডিম ও মুরগির এমন দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছেন ভোক্তারা। তবে বিক্রেতারা বলছেন, মুরগি ও ডিমের সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বাড়ছে। সরবরাহ সংকট কেটে গেলে দামও কমে যাবে।
কাজীর দেউরি বাজারে কথা হয় মেজবাহ উদ্দিন নামে এক ক্রেতার সঙ্গে। তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। অবস্থা এমন হয়েছে, আলুভর্তা ও ডাল–ভাতের খরচও বেড়ে গেছে। প্রতি ডজন ডিম ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। এক সপ্তাহে দাম বেড়ে গেছে ২০ টাকা। একই সময়ের মধ্যে মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২৫ টাকা।
দিনমজুর আমির হোসেন বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে এমনিতেই গরিব মানুষের খারাপ অবস্থা। এর মধ্যে ডিমের দামও বেড়ে গেছে। আগে অন্তত ছেলে–মেয়েদের জন্য ডিম কিনে নিয়ে যেতাম। এখন সেটিও সম্ভব হবে না। এম. এম. ইলিয়াছ উদ্দিন নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মুরগির খাবারের দাম বাড়ার কারণে ডিম ও মুরগির উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে–এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি। আমাদের দেশে ব্যবসায়ীরা বন্যাসহ নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় পণ্যের দাম বৃদ্ধি করে থাকেন। খাবারের দাম তো আগেই বেড়েছে। হঠাৎ এক সপ্তাহের মধ্যে ডিম–মুরগির দাম বৃদ্ধি হওয়াটা সন্দেহজনক। তবে প্রশাসনকে নিয়মিত বাজারে অভিযান চালাতে হবে।
মুরগি বিক্রেতা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মুরগির দাম বাড়ছে। আসলে মুরগির উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে দাম বাড়ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমে গেছে। ডিম বিক্রেতা মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ডিমের বাজার বাড়তি। আমরা পাইকারি বাজার থেকে অল্প অল্প ডিম এনে বিক্রি করি। পাইকারিতে কমলে আমাদের এখানেও কমে যাবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, বাজারে প্রতিটি পণ্য নিয়েই চলছে সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা একেক সময় একেক পণ্য নিয়ে খেলছেন। এর সর্বশেষ সংযোজন ডিম ও মুরগি।
তিনি বলেন, ডিম আমাদের দেশের নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষের প্রোটিনের অন্যতম প্রধান উৎস। সেই ডিমের দাম চোখের পলকে প্রতিটি সাড়ে ১২ টাকা হয়ে গেল। গরিব মানুষ আগে যারা একটি ডিম দুইজনে ভাগ করে খেতেন, তাদের সেই ভাগ নিঃসন্দেহে বাড়বে। তাদের পক্ষে হয়তো পরিবারের প্রতিটি সদস্যের জন্য একটি করে ডিম কিনে খাওয়া সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসনকে ডিম ও মুরগির বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।












