বৃষ্টির ঢলের কারণে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রায় দুই কিলোমিটার স্থানজুড়ে অন্তত পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ গভীর খাদ সৃষ্টি হয়েছে। এতে পর্যটকদের জন্য তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অন্যদিকে সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে সুগন্ধা মূল পয়েন্টেই প্রথম খালের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর সিগাল হোটেলের সামনে, সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে কলাতলীর দিকে যাওয়ার পথে হোটেল সি প্রিন্সেসের সামনে, ডিভাইন ইকো রিসোর্টের সামনে এবং কলাতলী মূল পয়েন্টের সামনে বৃষ্টির পানির প্রবাহে বালু কেটে খালের মতো গভীর ও প্রশস্ত অংশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া সায়মন বিচ রিসোর্ট পার হয়ে মডার্ন হ্যাচারির পাশেও একইভাবে পানির প্রবাহে বালু সরে খালের মতো তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার পরও এসব স্থানে এখনো পানির প্রবাহের চিহ্ন স্পষ্ট রয়েছে। কোথাও কোথাও বালু সরে গিয়ে কয়েক ফুট পর্যন্ত গভীরতা তৈরি হয়েছে। ফলে দূর থেকে দেখে জায়গাগুলো স্বাভাবিক সৈকতের অংশ মনে হলেও কাছে গেলে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাটি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে নিয়োজিত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার মাহবুব আলম বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কক্সবাজারে যখন জলাবদ্ধতা ও বন্যার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, তখন অতিরিক্ত বৃষ্টির ঢলের পানি সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে সমুদ্রের দিকে নেমে যায়। পানির ঢল যে পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে, সেখানেই বালু কেটে খালের মতো হয়ে গেছে। বিষয়গুলো আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি।
সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটকদের মধ্যেও এসব খাল নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। অনেক পর্যটক জানিয়েছেন, সৈকতের বালুর ওপর হঠাৎ এমন গভীর খাদ তৈরি হওয়ায় তারা স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। কুমিল্লা থেকে আসা খালেদ সরকার বলেন, সমুদ্র সৈকতে নামতে গিয়ে হঠাৎ দেখি খাল। এসে সাধারণত আমরা ঢেউয়ের কাছে গিয়ে ছবি তুলি, হাঁটাহাঁটি করি। কিন্তু এখানে হাঁটতে গিয়ে হঠাৎ নিচে পা পড়ে যাচ্ছে। কোথাও আবার বালু অনেকটা কেটে গেছে। আগে থেকে না জানলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা জানে আলম বলেন, দূর থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই যে এখানে খালের মতো গভীর জায়গা তৈরি হয়েছে। আমরা কয়েকজন একসঙ্গে হাঁটছিলাম। দৌড়ে উৎসাহ নিয়ে সমুদ্রে নামতে গিয়ে দেখি গভীর খলের মতো। পরে জানতে পারি বৃষ্টির পানিতে বালু কেটে এমন হয়েছে। বিষয়গুলো দ্রুত ঠিক করা দরকার।
সৈকতে পর্যটকদের নিরাপত্তায় সী সেইফ লাইফগার্ডের দলনেতা ওসমান গণি বলেন, সৈকতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে পর্যটকরা এখন এই নতুন ঝুঁকির মুখে পড়ছে। লাইফগার্ডরা কোন দিক সামলাবে। কারণ প্রয়োজনের তুলনায় লাইফগার্ড সংখ্যা অনেক অপ্রতুল।
পর্যটনসেবী সংগঠন টুয়াক’র সভাপতি আনোয়ার কামাল বলেন, সৈকতে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার কারণে প্রতিবছরই এ ধরনের খাল সৃষ্টি হয়। এগুলো পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে পর্যটকরা আনন্দ করতে গিয়ে এসব জায়গায় পড়ে যেতে পারেন। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো সংস্কার করা দরকার। শুধু বালু দিয়ে খালগুলো ভরাট করলেই হবে না। কেন প্রতিবছর একই জায়গায় পানি নেমে খাল তৈরি হচ্ছে, সেটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।
কঙবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম বলেন, আমরা বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। ঢলের পানি নেমে সমুদ্র সৈকতে খালের মতো হয়ে গেছে। আমরা প্রাথমিকভাবে পর্যটকদের সচেতন করছি এবং সতর্ক করছি, যেন তারা দুর্ঘটনার শিকার না হন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সঙ্গেও আলোচনা করে এগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে স্থায়ী সমাধান কীভাবে করা যায়, সেটিই আমরা চিন্তাভাবনা করছি।












