বৃক্ষমেলায় বেশি আকর্ষণ বনসাইয়ে

জাহেদুল কবির | সোমবার , ১৭ আগস্ট, ২০২৬ at ৬:৫৭ পূর্বাহ্ণ

বিভিন্ন প্রজাতির ফুল, ফল, বনজ ও ভেষজ গাছ নিয়ে অপরূপ সাজে সেজেছে নগরীর লালদীঘির মাঠের বৃক্ষমেলা। ইতোমধ্যে বৃক্ষপ্রেমীদের আনাগোনায় জমে উঠেছে এই মেলা। প্রতিবছরের মতো এবছরও দেশীয় গাছ ছাড়াও ভিনদেশী অনেক গাছের সংগ্রহশালা নিয়ে এসেছেন নার্সারি মালিকরা। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে নানা প্রজাতির বনসাই গাছ। এছাড়া বিভিন্ন স্টলে দুইতিনফুট উচ্চতার ফলদ গাছগুলো ফলের ভারে নুয়ে পড়েছে। শিশুদের সেইসব বৃক্ষরাজির সাথে পরিচিত হতে দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রি বেড়েছে। যারা গাছ ভালোবাসেন, তারা প্রায় প্রতিদিনই মেলায় ভিড় করছেন। তবে এবার ফল গাছে চেয়ে ফুল গাছের চাহিদাই বেশি। কারণ বিভিন্ন ও ফ্ল্যাট বাড়িতে শোভাবর্ধনের জন্য অনেকে ফুল গাছের টব কিনছেন। মেলায় প্রতিটি বিভিন্ন জাতের ভেষজ বৃক্ষের চারার দাম পড়বে ৪০ থেকে ৪০০ টাকা। বনজ গাছের চারার দাম ৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং ফুল গাছের চারা দাম পড়বে ৩০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে কেউ টবসহ কিনতে চাইলে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। গতকাল মেলা ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে নানা বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর ছিলো মেলা প্রাঙ্গণ। মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে ফুল গাছের চারা কিনতে এসেছেন গৃহিনী সুলতানা আকতার। তিনি বলেন, বাসার জন্য পাতাবাহার ও ঝাউ গাছের চারা কিনেছি। দামও নাগালের মধ্যে আছে।

মেলায় ফুল গাছের মধ্যে রয়েছেকনকচাপা, কাঁঠালচাপা, চম্পা, বেলি, গ্ল্যাডিয়াস, দোপাটি, এলামেন্ডা, ক্রিস্টমাস ট্রি স্বর্ণগুড়ি, মচেন্দা ও চন্দ্রমল্লিকা, জেট প্ল্যান্ট, পারিজাত, কদম, ফায়ারবল, হাইডেঞ্জা, কামিনী, হাসনাহেনা, জুই ও কলিয়াচ। বনজ গাছের চারাগুলোর মধ্যে রয়েছেএকশিরা, রেইনট্রি, বেলজিয়াম, কড়ই, সেগুন, গামারি, লম্বুক, মেহগনি, গর্জন, জারুল, শীল করই, সুন্দরী, চাম্বল, দেবদারু, উইপিং দেবদারু, চিকরাসি, চাম্পা, তেলসুর, শাল, ম্যানজিয়ান, শিশু ও গামারী। ফলদ চারা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছেআঙ্গুর, মাল্টা, কমলা, জামরুল, পেয়ারা, আমলকি, ড্রাগন, লটকন, তেঁতুল, জাম্বুরা, লিচু, আমড়া, আনার, বরই, সফেদা, স্ট্রবেরি, পেয়ারা, আম, কামরাঙ্গা, শরীফা, মস্তান, গাব, চাইনিজ কমলা, এলাচি লেবু, কাগজি লেবু, এইটফ্রুট, ডুরিয়ান, খোরমা খেজুর, আম্রপালি, চোষা, সুবর্ণরেখা, মাল্টা, খাজা কাঠাল, বারমাসী কাঠাল, সাগর কলা, আনাজী কলা, মিষ্টি জলপাই, আতা চারা ও করমচা।

দুই মেয়েকে নিয়ে বৃক্ষমেলায় এসেছেন বেসরকারি স্কুল শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস। তিনি মেয়েদের বৃক্ষের সাথে পরিচয় করাতে নিয়ে এসেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, শহরের যান্ত্রিক জীবনে চাইলে শত শত গাছের সাথে পরিচয় হওয়ার সুযোগ কম। তারাও বায়না ধরেছে বৃক্ষ মেলায় যাবে। মেলায় এসে তারাও খুব প্রফুল্ল। চারিদিকে সবুজের সমাহার দেখে মনটা ভালো হয়ে গেলো।

চট্টগ্রাম মহানগর নার্সারি মালিক সমিতির উপদেষ্টা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, মেলায় দর্শনার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। মেলায় নার্সারি মালিকরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও চারা নিয়ে এসেছেন। ক্রেতারা বিশেষ করে ফুল গাছের চারা ও গাছ কেনার দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

আফফান গার্ডেনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইসহাক দৈনিক আজাদীকে বলেন, শখের বশে গত ২০ বছর আগে বনসাই নিয়ে কাজ শুরু করি। এখন আমার কাছে অন্তত ২০০ প্রজাতির বনসাই গাছ আছে। এরমধ্যে আফ্রিকা ও ব্রাজিলের আমাজন বনের বাওবাব গাছও রয়েছে। প্রতিটি বনসাই গাছ বিক্রি করছি ২০ হাজার টাকায়। এছাড়া শেপলেরিয়া বনসাই গাছের দাম ৩০ হাজার টাকা। এর বাইরে পাইকাসের বিভিন্ন প্রজাতির ৩০৪০ টি বনসাই গাছ ও চারা বিক্রি করছি ২ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়া লাখ টাকার দেশীয় হিজল বনসাই গাছও আছে। কৃষ্ণচূড়া বনসাই ১০ হাজার টাকা, তেঁতুল ৫ হাজার টাকা, শ্যাওড়া ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করছি। বিক্রি কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিক্রি গত বছরের তুলনায় ভালো বলা যায়। আমাদের গাছ সৌখিন মানুষই কিনেন। এসব গাছ অফিস বা ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নিয়ে অনেকে নিয়ে যায়।

মুরাদপুর থেকে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী আসিফা তাবাসসুম বলেন, বৃক্ষমেলায় ঘুরতে ঘুরতে বনসাই স্টল দেখতে এলাম। অনেক চমৎকার কিছু গাছ এসেছে মেলায়। কেনার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু দাম বেশি হাঁকানোর কারণে কিনতে পারছি না।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় ৫৮টি নার্সারি ও স্টল অংশ নিয়েছে। এসব স্টলে মিলছে ফলদ, বনজ ও ওষুধি নানা প্রজাতির চারা এবং মাঝারি আকারের গাছ। চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের আয়োজনে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে শুরু হওয়া ১৫ দিনব্যাপী এ বৃক্ষমেলা চলবে আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজ্বালানি সংকটের সমাধানে অন্তত দুই বছর লাগবে : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা