বিরোধ মীমাংসা করে দলকে সংগঠিত করতে হবে

বাঁশখালী উপজেলা আ. লীগের সম্মেলনে হুইপ স্বপন আয়োজন বিষয়ে ক্ষোভ, আজ নগরে সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্ব

বাঁশখালী প্রতিনিধি | বুধবার , ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ at ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রামের বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি বলেছেন, সকল ধরনের বিরোধ মীমাংসা করে দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। দলের ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আগামীতে যে কোন দুঃসময়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে কর্মীদের সংগঠিত হতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে বাঁশখালী সরকারি বালিকা মাঠে বাঁশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দলের দুর্দিনে যারা দলকে টিকিয়ে রেখেছে তাদের খোঁজ খবর নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ সম্মেলনের আয়োজন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। এখানে অনেক কিছুর ঘাটতি রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের কার্যক্রম দেখা মনে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন। সম্মেলনস্থলে না তুলে দলীয় অফিসে জাতীয় ও দলীয় পতাকা তোলায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তিনি বক্তব্য রাখার সময় স্লোগান দিলে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শোক প্রস্তাব পাঠ করার সময় লাফালাফি করা অপরাধ। আমরা এখন টাকা ওয়ালা লোক দেখলে পাগল হয়ে যাই। এদিকে সম্মেলনের প্রথমপর্ব বাঁশখালীতে হলেও দ্বিতীয় পর্ব আজ বুধবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে বিকাল ২টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে সমাবেশে জানানো হয়।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ এমপি। বক্তব্যে তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল করেছেন। আজ বাঁশখালীর সব নেতা এক জায়গায় মিলিত হয়ে যে গণজাগরণ সৃষ্টি করেছে তা বজায় রাখতে হবে। ভোটের দিন যারা আওয়ামী লীগ করে তাদের নয়, যারা সারা জীবন আওয়ামী লীগ করে তাদের মূল্যায়ন করুন।

প্রধান বক্তা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ হচ্ছে গণমানুষের সংগঠন। সংগঠনের সকল ত্যাগী নেতা কর্মীদের মূল্যায়ন এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে এগিয়ে নিতে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনের একদিন পর এ সম্মেলনের আয়োজন করতে গিয়ে অনেক ভুলত্রুটি হয়েছে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী। আমি এমপি না হলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী না হলে দেশের ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতায় দেশের উন্নয়নে অনেক কাজ করেছি, সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় বাঁশখালী হয়ে যাতে মেরিন ড্রাইভ কঙবাজার যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল গফুরের সঞ্চালনায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক শ্যামল কান্তি দাশ।

সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি মোহাম্মদ ইদ্রিস, সাংগঠনিক সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন মনসুর, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. খোরশেদ আলম, দপ্তর সম্পাদক মো. আবু জাফর, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন, দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়মী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা হারুন লুবনা, বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র এস এম তোফাইল বিন হোছাইন প্রমুখ।