শেষ পর্যন্ত হয়তো একদম নিরুত্তাপ নির্বাচনই হতে যাচ্ছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে প্যানেল তৈরি এবং সেই প্যানেলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হলেও ভেতরে ভেতরে ১২ জন ঠিক হয়ে গেছে। অর্থাৎ ক্যাটাগরি–২, মানে ঢাকার ক্লাব কোটায় ৭৬ ভোটারের ভোটে কোন ১২ জন পরিচালক হবেন, তা একরকম ঠিক হয়ে গেছে। ধরেই নেওয়া যায় যে, তাদের বিপক্ষে আর কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন না। তাই ওই ১২ জন হয়তো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়ই বিসিবি পরিচালক হতে যাচ্ছেন। তালিকায় সবার ওপরই আছে তামিম ইকবালের নাম। জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক ওল্ডডিওএইচএস ক্লাবের কাউন্সিলর। তার সঙ্গে ফাহিম সিনহা (আবাহনীর কাউন্সিলর) ও রফিকুল ইসলাম বাবু (ইন্দিরা রোড ক্রীড়া চক্র) আছেন। সঙ্গে সাইদ ইব্রাহিম আহমেদ (ফেয়ার ফাইটার্স), ইসরাফিল খসরু চৌধুরী (এক্সিয়ম ক্রিকেটার্স), ইয়াসির আব্বাস (আজাদ স্পোর্টিং) এবং শাহনিয়ান তানিমের (মেরিনার্স ক্লাব) নামও আগেই উচ্চারিত হয়েছে। এ সাতজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন মোহামেডানের কাউন্সিলর মাসুদুজ্জামান, ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের কাউন্সিলর অধ্যাপক ড. সরকার মাহবুব শামিম আহমেদ, ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাবের ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল এবং শাইনপুকুরের আসিফ রাব্বানী ও সৈয়দ বোরহানুল হোসেন পাপ্পু (তেজগাঁও ক্রিকেট একাডেমি)। জানা গেছে, ওপরের এই ১২ জনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এছাড়া জেলা ও বিভাগ তথা ক্যাটাগরি–১ –এও নির্বাচনের সম্ভাবনা খুব কম। ৬৪ জেলা আর সাত বিভাগের ৭১ ভোটারের মধ্যে থেকে ১০ পরিচালক সেখানে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, জামালপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে বিসিবির সাবেক পরিচালক ফুয়াদ বিন রেদওয়ান, ঢাকা বিভাগ থেকে সাইদ বিন জামানের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত বলে জানা গেছে।

তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে ক্যাটাগরি–৩ এ। এখানে জানা যাচ্ছিল, নির্বাচন হতে পারে বা ধরেই নেওয়া হয়েছিল এই একটি ক্যাটাগরিতে নির্বাচনের সম্ভাবনা খুব বেশি। সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক, সার্ভিসেস এবং সব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলররাই এই ক্যাটাগরির ভোটার। তাদের মধ্যে একটি মাত্র পদ। সেই পদের জন্য ধারণা করা হচ্ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবব্রত পাল ও নারায়ণগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু গতকাল নির্বাচন কমিশন জানিয়ে গেল যে, একজনই মনোনয়ন তুলেছেন এবং একজনই জমা দিয়েছেন। তার মানে ক্যাটাগরি থ্রিতে নতুন করে কারও আর মনোনয়নপত্র তোলার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ নতুন আর কোনো প্রার্থী হতে পারবেন না। একজনই তুলেছেন, একজনই জমা দিয়েছেন। তিনি নাম বলেননি, তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে সেই নামটি সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর; যিনি এর আগেও বোর্ডে ছিলেন এবং বাংলাদেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সিলর হলেও তিনি বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থা এবং বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন, ক্রিকেট বোর্ডের দায়িত্বেও ছিলেন। কাজেই নির্বাচন কমিশন তাদের অবস্থানগত কারণে এখনই বেসরকারিভাবে সিরাজুদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীরকে নির্বাচিত ঘোষণা করতে না পারলেও এটা ধরেই নেওয়া যায়, ক্যাটাগরি–৩ থেকে তিনি যেহেতু একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র তুলেছেন এবং জমা দিয়েছেন, কাজেই তার মনোনয়ন বাতিল না হলে এবং বৈধ থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। আগামী ৭ জুন বিসিবি নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।












