বাংলাদেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে এক জটিল সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, ডলারের উচ্চ বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ঘাটতি সব মিলিয়ে জ্বালানি তেল, এলপিজি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, কৃষি উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। একইভাবে এলপিজি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি গৃহস্থালি ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে, ফলে অনেক পরিবার বিকল্প জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে। বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দিনে কয়েক ঘণ্টার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, অনলাইন কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটছে এবং স্বাস্থ্যসেবাও চাপে পড়ছে। শিল্প খাতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই সংকট শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্পসহ সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তাই সমাধানও হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তির প্রসার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।
ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান,
জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি।













