বাসের গোপন চেম্বারে ৩,৬৬০ ইয়াবা, র‍্যাবের জালে চালক-হেলপার

| মঙ্গলবার , ৪ আগস্ট, ২০২৬ at ৪:৫৩ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় বিশেষ চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে যাত্রীবাহী বাসের গোপন চেম্বার থেকে ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৭। এ সময় বাসটির চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন, আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পীরখাইন মধ্যমপাড়া এলাকার মো. মুজিব (২১) এবং পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের পাইরোল এলাকার মো. আবু হানিফ (২৪)।

র‍্যাব জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে একটি যাত্রীবাহী বাসে করে ইয়াবার বড় চালান চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। পরে র‍্যাব-৭-এর চান্দগাঁও ক্যাম্পের সদস্যরা বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করেন।

একপর্যায়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি নীল রঙের বাস (রেজিস্ট্রেশন নম্বর: চট্ট মেট্রো-ব-১১-১২৯২) থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় বাসটি যাত্রীশূন্য ছিল। চালক ও হেলপারের আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বাসের সর্বশেষ সারির ডান পাশে পারটেক্স বোর্ড দিয়ে তৈরি একটি গোপন চেম্বারে ইয়াবা লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন।

তাদের দেখানো মতে ওই গোপন চেম্বার থেকে স্কচটেপে মোড়ানো দুটি বান্ডেল উদ্ধার করা হয়। বান্ডেল দুটি খুলে মোট ১৯টি পলিজিপার প্যাকেট পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১৮টি প্যাকেটে ২০০টি করে এবং একটি প্যাকেটে ৬০টি ইয়াবা ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা, যার মোট ওজন প্রায় ৩৫০ গ্রাম।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত বাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার দুই আসামি জানিয়েছেন, তারা কক্সবাজার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাসে করে বহন করছিলেন।

র‍্যাব জানায়, এ ঘটনায় বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্তে পাঁচলাইশ ও চকবাজার এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধজুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ৩ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করেছে