বাবাকে শেষ বিদায় জানিয়ে মিয়ামিতে ফিরলেন মেসি

| বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট, ২০২৬ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

আর্জেন্টিনায় সংক্ষিপ্ত অবস্থান শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। দীর্ঘ অসুস্থতার পর শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করা বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে নিজ শহর রোজারিওতে গিয়েছিলেন তিনি। জন্মশহরে কয়েক দিন অবস্থান করার পর স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও চিরোকে নিয়ে পুনরায় ফ্লোরিডায় নিজের বাসভবনে ফিরেছেন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ ও আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে বাবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান লিওনেল মেসি। চিরতরে চলে যাওয়া বাবাকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন, ‘বাবা, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে তুমি নেই। ঘটনাটা এখনও আমার মাথায় ঢুকছে না। তোমাকে আর কখনও দেখতে পাব না, আমাদের আর কখনও কথা হবে না; এটা কল্পনা করাও আমার জন্য ভীষণ কঠিন। আমি জানি তুমি অনেক কষ্টে ছিলে এবং যা হয়েছে হয়তো ভালোর জন্যই হয়েছে, কিন্তু তুমি বড্ড জলদি চলে গেলে। আমাদের তো একসাথে উপভোগ করার আরও অনেক কিছু বাকি ছিল।’ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার সঙ্গে বিশ্বকাপের সময়কার স্মৃতিচারণ করে মেসি লেখেন, ‘তুমি আমাকে শেষ বিশ্বকাপটায় তোমাকে সাথে নিয়ে খেলার জন্য বারবার বলতে। অথচ টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার ঠিক কয়েক দিন আগেই তোমার শারীরিক অবস্থা সবচেয়ে খারাপ হয়ে গেল। এই প্রথমবার কোনো টুর্নামেন্টে তুমি আমার পাশে ছিলে না। তবে মা আমাকে বারবার বলছিল তুমি সুস্থ হয়ে উঠবে এবং মাঠে আসার মতো অবস্থায় ফিরবে। আমিও তোমাকে বলছিলাম আমরা ফাইনালে পৌঁছাব যেন তুমি সেখানে আসতে পারো।’ ‘প্রতিটি ম্যাচ শেষ হওয়ার পর আমি তোমার বার্তার অপেক্ষায় থাকতাম এবং তোমার অনুপস্থিতি অনুভব করতাম। তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম পরিস্থিতি সত্যি কতটা খারাপ। তবুও আমি ভাবতাম যতটা সম্ভব দূর পর্যন্ত যাই, যেন তুমি একটি ম্যাচ অন্তত দেখার সুযোগ পাও। আমরা ফাইনালে পৌঁছালাম, কিন্তু তুমি সেখানে থাকতে পারলে না। আমি চেয়েছিলাম ফাইনালটা জিততে, যেন ট্রফিটা তোমায় এনে দেখাতে পারি। কিন্তু আমি পারলাম না; আমার শরীর আর সায় দিচ্ছিল না। এবার আমি আমার শারীরিক সীমার বাইরে গিয়ে চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারিনি। আমি কোনোভাবেই ভালো অনুভব করছিলাম না।’ ফাইনালের পরিণতি এবং শেষবারের কথোপকথন নিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমি যখন পৌঁছালাম, তুমি ভেবেছিলে আমরা পেনাল্টিতে ফাইনাল হেরে গেছি। যা কিছু ঘটেছে তা নিয়ে আমরা আর কোনো কথাই বলতে পারলাম না। তুমি কিছুই উপভোগ করতে পারলে না। আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি, তবে আমরা প্রতিটি ম্যাচ কতটা উপভোগ করেছি তা তুমি ধারণাও করতে পারবে না। আবারও তুমিই ঠিক প্রমাণিত হলে: আমাকে সেখানে থাকতেই হতো এবং খেলতে হতো। আমি তোমাকে এগুলো বলছি কারণ একমাত্র এই বিষয়টা নিয়েই আমাদের কথা বলা হয়নি; এছাড়া বাকি সব তো তোমার জানাই ছিল। প্রতিদিন আমাদের কথা হতো এবং আমার ব্যস্ততার মাঝে সুযোগ পেলেই আমরা দেখা করতাম।’ বাবার বিয়োগের পর ফুটবল ক্যারিয়ারের অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন মেসি। পোস্টের শেষ অংশে বাবার আদর্শে সন্তানদের গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি। ‘তোমাকে আমি ভীষণ মিস করব, কিন্তু তুমি সবসময় থাকবে। শান্তিতে থেকো বাবা, ওপর থেকে আমাদের দিকে খেয়াল রেখো, যেভাবে এখানে থাকতে রাখতে। সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমাকে ভালোবাসি, বাবা।’

পূর্ববর্তী নিবন্ধবৃষ্টিতে হলো না দ. আফ্রিকা-বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের ফাইনাল
পরবর্তী নিবন্ধসিজেকেএস’র উদ্যোগে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল