চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানা এলাকায় দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তার, জানমালের ক্ষতিসাধন ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি ১৬ মামলার আসামি মোঃ মুরাদ (৪৩) এবং তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকলিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর সাড়াশী অভিযান চালিয়ে পটিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন হলেন—তদন্তে প্রাপ্ত আসামি সুমন (৩৫) ও রুহুল আমীন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০:৩০ টার দিকে বাকলিয়া থানাধীন সৈয়দ শাহ রোডস্থ মোরশেদ টাওয়ারের সামনে পাকা রাস্তার ওপর বাকলিয়া এক্সেস রোড ও ওয়াপদা লেইন এলাকার দুই সশস্ত্র গ্রুপ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় সংঘর্ষকারীরা সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতি ও নাশকতা সৃষ্টির পাশাপাশি রাস্তায় চলাচলরত সিএনজি অটোরিকশার গ্লাস ভাঙচুর এবং ব্যাপক ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
উক্ত নাশকতার ঘটনায় বাকলিয়া থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি মামলা (মামলা নং-২৬, তারিখ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে বাকলিয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদ ও আধুনিক তথপ্রযুক্তির সহায়তায় ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২:১০ টায় পটিয়া থানাধীন কালারপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান এজাহারনামীয় ১ নম্বর আসামি মুরাদ এবং তার সহযোগী সুমন ও রুহুল আমীনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের পিসিপিআর (পূর্ব অপরাধের রেকর্ড) যাচাই করে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মূল হোতা মুরাদের বিরুদ্ধে নগরের চান্দগাঁও, চকবাজার, কোতোয়ালী, পাঁচলাইশ, বাকলিয়া এবং জেলার বোয়ালখালী থানায় হত্যাচেষ্টা, দ্রুত বিচার আইন, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইসহ মোট ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এর আগে একই ঘটনায় জড়িত অপর গ্রুপের জসিমসহ ১৫ জন পুলিশ আটক করে আদালতে সোপর্দ করেছিল।
বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনূর আলম জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের নির্মূলে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।










